দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’! বিধানসভায় ফের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে…

June 24, 2026
1 min read

দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’!

বিধানসভায় ফের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করবে না। শুধু জেল নয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করার জন্যও নতুন আইন আনার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, চলতি অধিবেশনের শেষ দিনেই দুর্নীতিবিরোধী আরও কঠোর আইন আনা হবে। তাঁর কথায়, “অনেকে ভাবছেন কয়েক মাস জেলে থেকে বা আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলেই সব শেষ। কিন্তু এবার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত হবে। প্রয়োজন হলে সেই সম্পত্তি নিলাম করা হবে।”

নাম না করে তিনি একাধিক বিরোধী নেতাকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, অতীতে যাঁরা সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেন বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, জাহাঙ্গির খান, শওকত মোল্লা-সহ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।

দুর্নীতির তদন্তে বিশেষ কমিশন

শুভেন্দু জানান, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস কর্মকর্তা কে. জয়রামনকে সদস্য-সচিব করে এই কমিশন কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মনরেগা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন-সহ একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, “যেখানে অনিয়ম হয়েছে, সেখানে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিয়োগে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করা হবে এবং কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। কেন্দ্রীয় ইউপিএসসি-র ধাঁচে নিয়োগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।

বিরোধীদেরও আক্রমণ

বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল বিরোধীদের সমালোচনা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আপনার মস্তিষ্কে ডাল-ভাত, আর হৃদয়ে লেনিন-মাও জে দং।”

কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, শহরের রাস্তার নামকরণে স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনুপ্রবেশ রোধে কড়া অবস্থান

সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় ১,৮০০ জনকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।

বিধানসভায় শুভেন্দুর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে সামনে রেখেই সরকার আগামী দিনে এগোতে চায়। তাঁর ভাষণে বারবার উঠে এসেছে একটি বার্তা— দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনও রকম আপস নয়, বরং কড়া আইনি পদক্ষেপই হবে সরকারের প্রধান অস্ত্র।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *