দশ জনের বেলজিয়ামকেও হারাতে পারল না ইরান!
বিশ্বকাপে ফের দেখা গেল গোলশূন্য ড্র। স্পেন বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচের পর এ বার বেলজিয়াম ও ইরানের লড়াইও শেষ হল ০-০ ব্যবধানে। তবে স্কোরবোর্ডে গোল না থাকলেও ম্যাচে উত্তেজনার কোনও অভাব ছিল না। দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই গোলকিপারের অসাধারণ পারফরম্যান্সে জালে বল ঢোকেনি।
বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইরানের সামনে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ভাগে, যখন ৬৭ মিনিটে নাথান এনগোয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, তখন দশ জনের বেলজিয়ামকে চাপে ফেলে দিয়েছিল ইরান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি তারা। বেলজিয়ামের থিবো কুর্তোয়া এবং ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দ— দু’জনেই নিজেদের দলের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠলেন।
ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি বেলজিয়ামের দখলে। র্যাঙ্কিংয়ে ১৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা ইরানকে প্রথম ১৫ মিনিট কার্যত খেলতেই দেয়নি তারা। মাঝমাঠে কেভিন দ্য ব্রুইনের নিয়ন্ত্রণে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করছিল বেলজিয়াম। ইরানের ফুটবলাররা বল দখলে রাখতেই পারছিলেন না। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ খুব দ্রুত বেলজিয়ামের হাতে চলে যাচ্ছে।
তবে ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয় ইরান। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত একটি ফ্রিকিক থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তারা। এহসান হাজিসফির নেওয়া পরিকল্পিত ফ্রিকিকে মেহদি তারেমি বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে ভার পরীক্ষার পর গোল বাতিল হয়ে যায়। অল্পের জন্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ইরান।
বেলজিয়ামের আক্রমণভাগেও ছিল হতাশা। রোমেলু লুকাকু ৭৩ মিনিট মাঠে থাকলেও গোলের জন্য কোনও কার্যকর শট নিতে পারেননি। বেশ কয়েক বার সুযোগ তৈরি হলেও ইরানের রক্ষণ তাঁকে আটকে দেয়। বয়সের ছাপ পড়েছে কেভিন দ্য ব্রুইনের খেলাতেও। তাঁর পাস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও আগের মতো ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দিতে পারেননি তিনি।
অন্য দিকে, ইরানের রক্ষণও ছিল যথেষ্ট সংগঠিত। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২২ নম্বরে থাকা দলটি বুঝিয়ে দিয়েছে, মাঠের বাইরের নানা সমস্যার প্রভাব তাদের খেলায় পড়ছে না। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতি তাদের আরও একজোট করেছে। ম্যাচ শেষে মেহদি তারেমি সতীর্থদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন, যা দলের ঐক্যের ছবিই তুলে ধরে।
গোল না হলেও ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন দুই গোলকিপার। ইরানের নিশ্চিত কয়েকটি গোল বাঁচিয়ে দেন কুর্তোয়া। অন্য দিকে, শুরুতেই চোট পেলেও বেইরানভান্দ পুরো ম্যাচে অসাধারণ দক্ষতায় একের পর এক সেভ করেন। তাঁর একটি একহাতের সেভ ম্যাচের সেরা মুহূর্তগুলির মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ল বেলজিয়াম ও ইরান। তবে এই ম্যাচ প্রমাণ করে দিল, বিশ্বকাপে শুধু তারকা নয়— দৃঢ় মানসিকতা এবং গোলকিপারের অসাধারণ পারফরম্যান্সও অনেক সময় ফল নির্ধারণ করে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?