১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জার্মানি, নাগেলসম্যানের এক চালেই বদলে গেল ম্যাচের ছবি

১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জার্মানি! ফুটবলে সুযোগ নষ্টের খেসারত কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা আবারও দেখা গেল বিশ্বকাপে। দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হারতে হল আইভরি কোস্টকে। অন্য দিকে,…

June 21, 2026
1 min read

১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জার্মানি!

ফুটবলে সুযোগ নষ্টের খেসারত কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা আবারও দেখা গেল বিশ্বকাপে। দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হারতে হল আইভরি কোস্টকে। অন্য দিকে, পিছিয়ে পড়েও জার্মানি প্রমাণ করল— শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত নয়।

২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল। জার্মানির এই জয়ের মূল কারিগর ডেনিজ় উন্ডাভ। দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসাবে নেমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে আইভরি কোস্টের সাইমন আদিংরা যদি সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারতেন, তা হলে হয়তো গল্পটা অন্য রকম হতে পারত। গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ারকে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ঠিক তার পরেই উন্ডাভের গোলে জার্মান শিবিরে স্বস্তি ফেরে।

এই জয়ের পরে কোচ Julian Nagelsmann এবং দলের অভিজ্ঞ ফুটবলাররা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। কারণ শেষ দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে তাই ছিল নিজেদের প্রমাণ করার বড় পরীক্ষা।

তবে শুরুটা একেবারেই জার্মানির মতো হয়নি। আইভরি কোস্ট শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রতিআক্রমণের অস্ত্রে জার্মান রক্ষণকে বার বার সমস্যায় ফেলে তারা।

১৯ বছরের ইয়ান দিয়োমান্দে নজর কাড়েন। তাঁর গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং জার্মান ডিফেন্স ভেদ করার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের। যদিও শেষ মুহূর্তের পাস ও ফিনিশিংয়ে কিছু খামতি ছিল।

প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টের দাপটের ফল আসে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে। দিয়োমান্দের ক্রস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে প্রথমে নয়ার বল ঠেকালেও ফিরতি বলে গোল করেন কেসি। জার্মান রক্ষণ তখন কার্যত চাপে।

প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না নাগেলসম্যান। তাই দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন তিনি। মাঠে নামান উন্ডাভ, জেমি লিউইলিং এবং নাদিম আমিরিকে।

এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি বাড়ান উন্ডাভ। জার্মানি ডান দিক দিয়ে একের পর এক আক্রমণ শুরু করে। আমিরি এবং Joshua Kimmich-এর ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমিরির ক্রস থেকে গোল করে সমতা ফেরান উন্ডাভ।

এর পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় জার্মানির হাতে। আইভরি কোস্ট রক্ষণে নেমে গেলেও আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায়। নিকোলাস পেপে দুরন্ত গতিতে জার্মান বক্সে ঢুকে আদিংরাকে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

হারলেও আইভরি কোস্টের ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছে। বড় দলের বিরুদ্ধে ভয় না পেয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, আফ্রিকার ফুটবলের শক্তি দ্রুত বাড়ছে।

অন্য দিকে, জার্মানি আবারও দেখাল তাদের পুরনো পরিচয়— লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হার মানে না। নাগেলসম্যানের সময়োচিত পরিবর্তন এবং উন্ডাভের দুর্দান্ত প্রভাবই শেষ পর্যন্ত তাদের নকআউটের টিকিট এনে দিল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *