অ্যাকসেঞ্চারের সতর্কবার্তায় ধাক্কা!
শুক্রবার সকালে শেয়ারবাজার খুলতেই বড় ধাক্কার মুখে পড়ল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত। বিশ্বখ্যাত পরামর্শদাতা সংস্থা অ্যাকসেঞ্চারের সাম্প্রতিক আর্থিক পূর্বাভাস প্রকাশের পর আইটি শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। তার জেরে দালাল স্ট্রিটে শুরু হয় ব্যাপক রক্তক্ষরণ, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাজার মূলধনের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
বাজার খোলার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায় আইটি খাতে। অ্যাকসেঞ্চার তাদের বার্ষিক রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাসের ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি পরিষেবায় গ্রাহকদের ব্যয় নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে। Tata Consultancy Services (টিসিএস), Infosys, HCLTech, Tech Mahindra এবং Wipro-র শেয়ারের দাম ৩.৩ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। শুধু বড় সংস্থাই নয়, মাঝারি মাপের সফটওয়্যার কোম্পানিগুলিও ধাক্কা খেয়েছে। Coforge, Hexaware Technologies, Sonata Software, Tata Elxsi এবং KPIT Technologies-এর শেয়ারেও বড় পতন দেখা যায়।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মূল কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও প্রযুক্তি খাতে কর্পোরেট ব্যয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। অ্যাকসেঞ্চারের মন্তব্যে সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়েছে। ফলে আইটি পরিষেবা সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ আয় ও নতুন প্রকল্প পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইটি খাতের এই ধসের প্রভাব পড়ে সামগ্রিক বাজারেও। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেনসেক্স প্রায় ৭৯০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়। অথচ এর আগের কয়েকটি সেশনে বাজার বেশ ইতিবাচক ছিল। মার্কিন-ইরান শান্তি উদ্যোগের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি চলে আসে, যা ভারতের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হয়েছিল। মুদ্রাস্ফীতি ও চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছিল।
তবে সব খাত যে একই রকম চাপে ছিল, তা নয়। আইটি শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি চললেও কিছু প্রতিরক্ষামূলক ও অবকাঠামো-নির্ভর শেয়ার ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। NTPC-র শেয়ার ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি Sun Pharmaceutical Industries, Power Grid Corporation of India, Trent এবং Bharti Airtel-এর শেয়ারেও সীমিত বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন মূলত ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া। আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে নতুন চুক্তি, কর্পোরেট ব্যয়ের প্রবণতা এবং এআই-নির্ভর ব্যবসার বাস্তব ফলাফলই নির্ধারণ করবে আইটি শেয়ারগুলির পরবর্তী দিকনির্দেশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?