হ্যাটট্রিকের পর আবেগে ভেসে গেলেন মেসি!
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন লিয়োনেল মেসি। কিন্তু ম্যাচের ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে একটি আবেগঘন মুহূর্ত। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোল করার পর কয়েক সেকেন্ড উদ্যাপনের পরই দেখা যায়, মাথা নিচু করে চোখের জল মুছছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার আবেগেই কেঁদে ফেলেছেন মেসি। তবে ম্যাচ শেষে নিজেই সেই রহস্যের জবাব দিলেন তিনি।
মেসি স্বীকার করেন যে তিনি সত্যিই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সেই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক ছিল না।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কেঁদেছিলাম। কিন্তু সেটা গোল করার জন্য নয়। গত কয়েকটা দিন আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। ব্যক্তিগতভাবে কিছু জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। গোল করার পর হঠাৎ সেই সব বিষয়ই মনে পড়ে যায়।”
তবে ঠিক কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বরং এই কঠিন সময়ে সতীর্থদের পাশে পাওয়ার কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মেসির কথায়, “আমি আমার সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওরা সব সময় আমাকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে। আমি যাতে ভাল অনুভব করি, সে জন্য অনেক কিছু করেছে। তাদের এই সমর্থন আমি কখনও ভুলব না।”
৩৯ বছর বয়সেও যে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার, তা আবারও প্রমাণ করেছেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করার পরও তাঁকে অত্যন্ত শান্ত এবং সংযত দেখিয়েছে।
বর্তমান সময়ে ফুটবলকে কী ভাবে দেখছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে মেসি বলেন, “এখন আমি খেলাটা উপভোগ করি। এই পর্যায়ে এসে মাঠে নামতে পারাটা যেন বাড়তি উপহার। অসাধারণ একটা দলের সঙ্গে খেলছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
ফিটনেস নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন তিনি, অথচ মাঠে এখনও আগের মতোই ক্ষিপ্র ও কার্যকর। তবে নিজের ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয়কেই বেশি গুরুত্ব দিলেন মেসি।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জেতা সব সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমার্ধে আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে অনেক ভাল খেলেছি। শেষ পর্যন্ত জয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
ম্যাচে আরও এক বার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উপস্থিতি। গ্যালারির নীল-সাদা আবহ নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি বলেন, “আমাদের সমর্থকেরা সব সময় আমাদের শক্তি। কাতারে যেমন ছিল, এখানেও তেমনই আছে। তারা সব সময় পাশে থাকে। আজ তাদের আনন্দ দিতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”
মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিয়োনেল স্কালোনিও। ম্যাচ শেষে তাঁকে যখন মেসির খেলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।
স্কালোনির সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “লিওকে নিয়ে নতুন করে আর কী বলব! আমি সত্যিই ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ও অসাধারণ।”
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক, দলের দাপুটে জয় এবং আবেগঘন এক মুহূর্ত— সব মিলিয়ে মেসির জন্য দিনটি হয়ে থাকল স্মরণীয়। আর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এটা যেন আরও এক বার মনে করিয়ে দিল, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এখনও জাদু দেখানোর ক্ষমতা রাখেন লিও মেসি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?