বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন রোনাল্ডোরা!
বিশ্বকাপের মঞ্চে এ বার দেখা যাবে না দিয়োগো জোতাকে। কিন্তু পর্তুগাল দলের কাছে তিনি এখনও সমানভাবে উপস্থিত। প্রয়াত সতীর্থের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পর্তুগাল ফুটবল দল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-সহ গোটা দল অনুশীলনে নেমেছে বিশেষ একটি রিস্টব্যান্ড পরে, যা উৎসর্গ করা হয়েছে জোতার স্মৃতিতে।
গত বছর স্পেনে এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পর্তুগালের এই জনপ্রিয় ফুটবলার। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর ভাইও নিহত হন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে থেমে গিয়েছিল এক সম্ভাবনাময় ফুটবল জীবনের পথচলা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এ বার তাঁরও খেলার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
জোতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই বিশেষ রিস্টব্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো নিজে এই রিস্টব্যান্ড দলের ফুটবলারদের উপহার দিয়েছেন। রিস্টব্যান্ডে পর্তুগাল দলের সমস্ত ফুটবলারের নামের পাশাপাশি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে দিয়োগো জোতার নাম, যেন তিনি এখনও দলেরই একজন সদস্য।
সাম্প্রতিক অনুশীলনে রোনাল্ডো, ভিটিনহা এবং দলের অন্যান্য ফুটবলারের হাতে সেই রিস্টব্যান্ড দেখা গিয়েছে। শুধু অনুশীলনেই নয়, বিশ্বকাপের ম্যাচেও এটি পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
সাংবাদিক বৈঠকে এই উদ্যোগ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মিডফিল্ডার ভিটিনহা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁদের হাতে এই রিস্টব্যান্ড তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, চাইলে আমরা এটি ব্যবহার করতে পারি। কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু আমরা সবাই অনুভব করেছি, এটি শুধুই একটি রিস্টব্যান্ড নয়, আমাদের এক প্রিয় সতীর্থের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে চলার প্রতীক।”
ভিটিনহার কথায়, “জোতা আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তাঁর অবদান, তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আমরা কখনও ভুলতে পারব না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিশ্বকাপের ম্যাচেও এই রিস্টব্যান্ড পরে খেলব।”
পর্তুগালের জার্সিতে জোতার অবদানও কম নয়। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪৯টি ম্যাচ খেলেছিলেন এবং করেছিলেন ১৪টি গোল। আক্রমণভাগে তাঁর গতি, দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতা দীর্ঘদিন পর্তুগালের বড় অস্ত্র ছিল।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আগামী বুধবার কঙ্গোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। মাঠে রোনাল্ডোরা লড়াই করবেন দেশের জন্য, আর তাঁদের হাতে বাঁধা সেই রিস্টব্যান্ড মনে করিয়ে দেবে এমন এক সতীর্থকে, যিনি আজ আর নেই, কিন্তু যাঁর স্মৃতি এখনও দলের প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে জীবন্ত।
ফুটবলে জয়-পরাজয়ের হিসাব বদলাতে থাকে। কিন্তু কিছু সম্পর্ক, কিছু স্মৃতি কখনও হারিয়ে যায় না। দিয়োগো জোতার প্রতি পর্তুগাল দলের এই সম্মান সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?