বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ভূমিকম্পের ধাক্কা!!
ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখনও মাঠে গড়ায়নি, তার আগেই অপ্রত্যাশিত এক ঘটনায় চমকে উঠল ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল শিবির। তবে এই ধাক্কা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নয়, এসেছে প্রকৃতির কাছ থেকে। শক্তিশালী ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দিল আমেরিকার ফ্লোরিডা-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যার প্রভাব অনুভূত হয়েছে দুই ইউরোপীয় ফুটবল শক্তির প্রস্তুতি শিবিরেও।
বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চালাচ্ছে ইংল্যান্ড দল। অন্য দিকে, ফ্লোরিডাতেই শিবির গেড়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। সোমবার আচমকা ভূমিকম্পের কম্পনে দুই দলের ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.১। এর কেন্দ্রস্থল ছিল কিউবার পশ্চিম উপকূলের কাছে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৬ কিলোমিটার গভীরে। ফ্লোরিডা থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরে হলেও কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে মায়ামি, অরল্যান্ডো, জ্যাকসনভিল এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে কিউবায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, জীবনে প্রথমবার এমন তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন তাঁরা। এক বাসিন্দার কথায়, “হঠাৎ পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসি।” অন্য এক ব্যক্তি বলেন, “এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আগে কখনও দেখিনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।”
মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি ছোট আফটারশকের খবর দিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখতে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ আমেরিকা ও মেক্সিকোর প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ফুটবল দলগুলির শিবির রয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবাগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পে দলের কোনও সদস্য আহত হননি। সকলেই নিরাপদে রয়েছেন এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার কোস্টারিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে হ্যারি কেনদের দল। এরপর তারা কানসাস সিটিতে পাড়ি দেবে, সেখান থেকেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।
পর্তুগাল শিবির থেকেও স্বস্তির খবর মিলেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-সহ দলের সকল সদস্য নিরাপদ রয়েছেন এবং প্রস্তুতিতে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।
বিশ্বকাপের আগে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আপাতত স্বস্তির বিষয়, বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং দুই দলের ফুটবলাররাই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। এখন তাঁদের লক্ষ্য একটাই— মাঠে নেমে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?