প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন সলমন খান!
পর্দায় তিনি কঠোর, আত্মবিশ্বাসী এবং সবসময় দৃঢ়চেতা। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোকের মুহূর্তে সেই পরিচিত সলমন খানকে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য রূপে। মুম্বইয়ের একটি শ্মশান থেকে বেরিয়ে আসার সময় অভিনেতার চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা। বারবার চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ ও সহানুভূতির স্রোত নেমেছে।
জানা গিয়েছে, খান পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুমুদ রানের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন সলমন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই সোহেল খান, মা সলমা খান এবং পরিবারের আরও সদস্যরা। শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেতা।
কুমুদ রানে শুধু পরিবারের বন্ধু ছিলেন না, সলমনের ব্যক্তিগত জীবনেরও অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন বলে জানা যায়। গত মাসেই তাঁকে দেখতে মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে গিয়েছিলেন সলমন। সেই সময় হাসপাতালের বাইরে ফটোগ্রাফারদের উপস্থিতি দেখে বিরক্ত হয়েছিলেন অভিনেতা। অসুস্থ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার মুহূর্তকে প্রকাশ্যে তুলে ধরায় তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন।
গত কয়েক বছর ধরে ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে সলমনকে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি, শারীরিক অসুস্থতা এবং প্রিয় মানুষদের হারানোর যন্ত্রণা— সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন তিনি।
কুমুদ রানের মৃত্যু সলমনের জীবনে আরও একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগেও তিনি একাধিক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারিয়েছেন। মাত্র কয়েক মাস আগে ৪২ বছরের পুরনো বন্ধু সুশীল কুমারের মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীর ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় আবেগঘন বার্তায় সলমন বলেছিলেন, সুশীল শুধু বন্ধু নন, পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি যোদ্ধার মতো লড়াই করেছেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন অভিনেতা।
এরও আগে, ২০২৪ সালে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব Baba Siddique-এর মৃত্যুসংবাদে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সলমন। খবর পাওয়ার পর তিনি নিজের সমস্ত কাজ স্থগিত রেখে বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন অভিনেতা।
বলিউডে সলমন খানকে নিয়ে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়— তিনি একবার কাউকে বন্ধু বলে মেনে নিলে, সেই সম্পর্ক আজীবন ধরে রাখেন। বন্ধুদের প্রতি তাঁর আনুগত্য এবং দায়বদ্ধতার বহু উদাহরণ রয়েছে। তাই একের পর এক কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা যে তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করছে, তা তাঁর সাম্প্রতিক উপস্থিতিতেই স্পষ্ট।
শ্মশান থেকে বেরিয়ে আসা সেই নীরব, অশ্রুসিক্ত সলমন যেন মনে করিয়ে দিলেন— খ্যাতি, সাফল্য কিংবা জনপ্রিয়তার আড়ালেও একজন মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা ঠিক ততটাই বাস্তব। আর প্রিয়জন হারানোর শোকের সামনে সব পরিচয়ই কখনও কখনও ম্লান হয়ে যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?