সোজাসাপটা, প্রতিবাদী, রসবোধে ভরপুর— মানুষ অনীক দত্তকে মনে রাখবে বাংলা

মানুষ অনীক দত্তকে মনে রাখবে বাংলা! বাংলা সিনেমার জগতে অনীক দত্ত শুধু একজন সফল পরিচালক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ বাংলা সংস্কৃতি জগতের জন্য এক…

May 30, 2026
1 min read

মানুষ অনীক দত্তকে মনে রাখবে বাংলা!

বাংলা সিনেমার জগতে অনীক দত্ত শুধু একজন সফল পরিচালক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ বাংলা সংস্কৃতি জগতের জন্য এক বড় ধাক্কা। মাত্র কয়েক দিন আগেই জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছিলেন তিনি। তারপর হঠাৎই থেমে গেল এক সৃজনশীল যাত্রা, যা এখনও অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছিল।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া অনীকের পড়াশোনা শুরু হয় পাঠভবনে। পরে তিনি স্নাতক হন St. Xavier’s College, Kolkata থেকে। অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করলেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনের জগতে। সেই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ভূতের ভবিষ্যৎ-ই তাঁকে দর্শকের কাছে বিশেষ পরিচিতি দেয়।

অনীকের ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর স্পষ্টভাষিতা। অন্যায় বা অসঙ্গতি চোখে পড়লে তিনি চুপ করে থাকতেন না। রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক যে কোনও বিষয়েই নিজের মত প্রকাশ করতে দ্বিধা করতেন না। এই সোজাসাপটা মনোভাবের জন্য যেমন অনেকের শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তেমনই সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে নিজের অবস্থান থেকে তিনি কখনও সরে আসেননি।

পারিবারিক দিক থেকেও অনীকের পরিচয় ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর দাদু নরেন্দ্রচন্দ্র দত্তকে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু পারিবারিক ঐশ্বর্য বা সামাজিক মর্যাদা তাঁর জীবনযাত্রায় কখনও বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পাশ্চাত্য সঙ্গীত, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়-এর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা থেকেই তৈরি হয় অপরাজিত। ছবিটি শুধু সমালোচকদের প্রশংসাই কুড়োয়নি, বক্স অফিসেও সাফল্য পেয়েছিল।

বন্ধু এবং সহকর্মীদের কাছে অনীক ছিলেন রসবোধসম্পন্ন, আড্ডাপ্রিয় এবং অত্যন্ত খুঁতখুঁতে একজন মানুষ। নিজের কাজ নিয়ে এতটাই সচেতন ছিলেন যে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মজা করে তাঁকে “প্যানিক দত্ত” বলতেন। একটি দৃশ্য নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত বারবার শুট করতে তাঁর কোনও আপত্তি ছিল না।

ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তিনি ছিলেন আবেগপ্রবণ। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর পারিবারিক সূত্রে সম্পর্ক ছিল ধর্মেন্দ্র-র পরিবারের সঙ্গেও। সেই সূত্রে তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার বিমল রায়-এর পরিবার-পরম্পরার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

জীবনের শেষ পর্যায়েও অনীক নতুন স্বপ্ন দেখছিলেন। তিনি সঙ্গীত কিংবদন্তি সলিল চৌধুরী-কে নিয়ে একটি বায়োপিক তৈরি করতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি ‘অপরাজিত ২’-এর পরিকল্পনাও চলছিল। সেই সব পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হল না।

তবে তাঁর তৈরি সিনেমা, তাঁর রসবোধ, তাঁর প্রতিবাদী মনোভাব এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনীক দত্ত হয়তো চলে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর কাজ ও ব্যক্তিত্ব আজও অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *