৩৬ বছরেও থামছেন না ভুবনেশ্বর!
বয়স ৩৬ হলেও আইপিএলে এখনও দাপট দেখিয়ে চলেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। গতি কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু সুইং, লাইন-লেন্থ আর অভিজ্ঞতার জোরে এখনও ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই অভিজ্ঞ পেসার। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি। ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে এখন বেগনি টুপির দৌড়েও সবার আগে ভুবনেশ্বর।
নিজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের রহস্যও খোলসা করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ভুবনেশ্বর জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে তাঁর ক্রিকেট-ভাবনা এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, এখন তিনি অনেক দ্রুত ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। গত এক দশকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের মানসিকতা অনেক বদলে গিয়েছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকেও বদলাতে হয়েছে তাঁকে।
ভুবনেশ্বর বলেন, “একটা সময় কোনও ম্যাচে ৪০ রান দিলে মনে হত খুব খারাপ বল করেছি। এখন ৪০ রান দিলে মনে হয় মোটামুটি ভালই বল হয়েছে। আগে ২০০ রান মানেই ম্যাচ জেতার মতো স্কোর মনে হত। এখন ২০০ রান তাড়া করাও খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।”
২০২২ সালের পর আর ভারতের জার্সিতে দেখা যায়নি তাঁকে। জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাও আপাতত কম। কিন্তু তাতেও অনুপ্রেরণার অভাব হচ্ছে না ভুবনেশ্বরের। তাঁর মতে, শুধু ‘মোটিভেশন’ দিয়ে দীর্ঘ সময় ভাল খেলা সম্ভব নয়, আসল বিষয় হল শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা।
তিনি বলেন, “প্রতি দিন নিজের কাজটা ঠিক ভাবে করে যেতে হয়। অনুশীলনে ধারাবাহিক থাকলে ম্যাচেও তার ফল পাওয়া যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে সামলানো কঠিন হয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু অভিজ্ঞতা তখন অনেক সাহায্য করে। এখন ম্যাচের পরে শরীর ঠিক হতে বেশি সময় লাগে, তবে মানসিক ভাবে খেলাটা অনেক সহজ মনে হয়।”
বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসী মানসিকতা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলতে নামা এখনকার ব্যাটারদের জন্য বোলারদের কাজ অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করেন ভুবনেশ্বর। তবে এটাকেই ক্রিকেটের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তিনি।
২০০৯ সালে প্রথম বার আরসিবি দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ভুবনেশ্বর। তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে এলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে আবার বেঙ্গালুরু দলে ফিরে তিনি এখন অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ভুবনেশ্বর বলেন, “তখন আইপিএলের চাকচিক্য দেখে একটু ভয়ই লাগত। এখন পরিস্থিতি আলাদা। এখন আমি দলের সিনিয়রদের একজন। বলতে পারেন, বেঙ্গালুরুতে ফিরে আমার ক্রিকেটজীবনের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে।”
শুধু উইকেট নেওয়াই নয়, রান আটকে রাখার ক্ষেত্রেও এই মরসুমে অন্যতম সেরা ভুবনেশ্বর। ১১ ম্যাচে তাঁর ইকনমি রেট মাত্র ৭.৪৬, যা বর্তমান ব্যাটিং-বান্ধব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সত্যিই প্রশংসনীয়।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা