দেশের সামরিক নেতৃত্বে বড় বদল!
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় রদবদলের ঘোষণা করল কেন্দ্র। ভারতের নতুন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসাবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি। শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দেশের পরবর্তী নৌসেনা প্রধান হিসাবেও ঘোষণা করা হয়েছে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনের নাম।
বর্তমানে সিডিএস পদে রয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। আগামী ৩০ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার পর থেকেই দেশের তিন বাহিনীর সমন্বিত নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাবেন সুব্রমণি। স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে দেশের সামরিক কৌশল পরিচালনার ক্ষেত্রে সিডিএস পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসাবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের সামরিক জীবনে সুব্রমণি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ১৯৮৫ সালে গঢ়বাল রাইফেল্সে যোগ দেন তিনি। পরে ব্রিটেনের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজেও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে পর্বত ব্রিগেডে দায়িত্ব পালন করেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
কর্মজীবনে একাধিক সংঘাতপ্রবণ এবং সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব সামলেছেন সুব্রমণি। কাজাখস্তানে ভারতীয় দূতাবাসেও কাজ করেছেন তিনি। সেনাবাহিনীতে দক্ষ নেতৃত্ব ও কৌশলগত ভূমিকার জন্য একাধিক সম্মানও পেয়েছেন।
২০২৩ সালে তাঁকে সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ জেনারেল অফিসার করা হয়। পরের বছর দায়িত্ব পান দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসাবে। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক উপদেষ্টা হিসাবেও কাজ করছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এ বার দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে তাঁর নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।
অন্য দিকে, দেশের নতুন নৌসেনা প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। বর্তমানে তিনি মুম্বইয়ে পশ্চিম নৌ কমান্ডের প্রধান। এর আগে নৌসেনার উপপ্রধান হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। চলতি মাসের শেষে বর্তমান নৌসেনা প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশকুমার ত্রিপাঠীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়িত্ব নেবেন স্বামীনাথন।
নৌবাহিনীতে তাঁর অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, আইএনএস কুলিশ, আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এই নতুন নেতৃত্ব আগামী দিনে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা