রিকেলটনের আগুনে ইনিংসে লখনউকে হারিয়ে ছন্দে ফিরল মুম্বই!
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করলেন রোহিত শর্মা, আর তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেন রায়ান রিকেলটন। এই দুই ওপেনারের ঝোড়ো ইনিংসেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ফিরে পেল জয়ের ছন্দ। সোমবার তারা ৬ উইকেটে হারিয়ে দিল লখনউ সুপার জায়ান্টস-কে, যদিও প্রতিপক্ষের হয়ে ঝড় তুলেছিলেন নিকোলাস পুরান।
প্রথমে ব্যাট করে লখনউ তোলে ২২৯/৪— যা এই মাঠে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং স্কোর। শুরুটা যদিও ভালো হয়েছিল, কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি জশ ইংলিস। এরপর মিচেল মার্শ ও পুরান মিলে ইনিংসকে গতি দেন। বিশেষ করে পুরান, তিন নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। মাত্র ১৬ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। একের পর এক ছক্কায় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেছিলেন।
তবে সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২১ বলে ৬৩ রান করে থামেন পুরান, আর তার পরেই ইনিংসের গতি কিছুটা কমে যায়। মার্শ (৪৪) ভালো সঙ্গ দিলেও শেষদিকে এডেন মার্করাম ও হিম্মত সিংহ দ্রুত রান তুলে দলকে ২০০ পেরিয়ে দেন।
এই বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই অন্য মেজাজে ছিল মুম্বই। ওপেনিং জুটিতেই ম্যাচের রূপরেখা বদলে দেন রোহিত ও রিকেলটন। লখনউয়ের বোলারদের কোনও সুযোগ না দিয়ে তারা দ্রুত রান তুলতে থাকেন। মাত্র কয়েক ওভারেই বোঝা যায়, ম্যাচটা কোন দিকে যেতে পারে।
রিকেলটন ছিলেন একেবারে আগুনে ফর্মে। ৩২ বলে ৮৩ রান— ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৮টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে রোহিতও ছিলেন সমান সাবলীল। চোট সারিয়ে ফিরে ৪৪ বলে ৮৪ রান করেন তিনি, ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। দু’জনে মিলে ওপেনিং জুটিতে ১৪৩ রান তুলে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় এনে দেন।
যদিও মাঝের দিকে একটু ধাক্কা খায় মুম্বই। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বড় রান করতে পারেননি, তিলক বর্মাও ব্যর্থ হন। তবে শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান নমন ধীর ও উইল জ্যাকস।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচে মুম্বইয়ের জয়ের আসল গল্প লিখেছেন দুই ওপেনার। রোহিতের প্রত্যাবর্তন যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াল, তেমনই রিকেলটনের আগ্রাসী ব্যাটিং দলের জন্য বড় পাওনা। অন্যদিকে, পুরানের ঝোড়ো ইনিংস সত্ত্বেও লখনউকে হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হল।
এই জয়ের ফলে মুম্বই আবারও প্রমাণ করল— তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ছন্দে থাকলে যে কোনও বড় লক্ষ্যই ধাওয়া করা সম্ভব।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা