সংগ্রাম পেরিয়ে আইপিএলের আলোয় মঙ্গেশ!
ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিকগুলির মধ্যে অন্যতম হল—অসংখ্য প্রতিকূলতা পেরিয়ে উঠে আসা প্রতিভা। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বাঁহাতি পেসার মঙ্গেশ যাদব, যিনি আজ Royal Challengers Bengaluru-এর হয়ে আইপিএলের মঞ্চে পা রাখার অপেক্ষায়। কিন্তু এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না।
মধ্যপ্রদেশের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম মঙ্গেশের। তাঁর বাবা রামঅবধ যাদব পেশায় ট্রাকচালক। ভোর ৩টেয় উঠে দিনের পর দিন দীর্ঘ রাস্তায় ট্রাক চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমনই ছিল যে, অনেক সময় ঠিকমতো খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে যেত। তবু ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন কখনও ভাঙতে দেননি বাবা।
ক্রিকেট শেখার খরচ, যাতায়াত, সরঞ্জাম—সবকিছু জোগাড় করতে গিয়ে রামঅবধকে ঋণ পর্যন্ত নিতে হয়েছে। বহু রাত কাটিয়েছেন দুশ্চিন্তায়, কীভাবে ছেলের স্বপ্ন পূরণ করবেন তা ভেবে। অন্যদিকে, মঙ্গেশও বসে থাকেননি। ছোটবেলা থেকেই টেনিস বলের টুর্নামেন্টে খেলে বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরেছেন—উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ। ট্রেনের সাধারণ কামরা বা বাসে চেপে যাওয়া, সামান্য টাকা রোজগার—এই ছিল তাঁর বাস্তবতা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেটে সুযোগ পান তিনি। এক পরিচিতের সাহায্যে নয়ডায় গিয়ে কোচ ফুলচাঁদ শর্মার নজরে আসেন। প্রতিভা চিনে নিয়ে কোচ তাঁর থাকার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন—যা মঙ্গেশের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিজের কথায়, “ওই সুযোগ না পেলে হয়তো আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না।”
এর পর ধীরে ধীরে উঠে আসা—স্থানীয় লিগ, রাজ্য দল, তারপর বড় মঞ্চ। ২০২৫ সালের মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে সবার নজরে আসেন তিনি। এরপর একাধিক আইপিএল দলের ট্রায়ালের ডাক পান। শেষ পর্যন্ত Royal Challengers Bengaluru তাঁকে ৫.২ কোটি টাকায় দলে নেয়—যা শুধু তাঁর নয়, তাঁর বাবার দীর্ঘ সংগ্রামেরও স্বীকৃতি।
এই দলে তিনি খেলবেন Virat Kohli-র মতো তারকার সঙ্গে—যা তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের সমান। যদিও এখনও আইপিএলে অভিষেক হয়নি, কিন্তু খুব শিগগিরই সেই মুহূর্ত আসবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
মঙ্গেশের গল্প শুধু একজন ক্রিকেটারের নয়, এটি এক পরিবারের লড়াই, ত্যাগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প। যেখানে অভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—পরিশ্রম আর বিশ্বাস থাকলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়ই।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না