ফর্ম-৬ ঘিরে তুমুল বিতর্ক: কমিশনের দফতরে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর

কমিশনের দফতরে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর! পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।…

March 31, 2026
1 min read

কমিশনের দফতরে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাইরের রাজ্য থেকে ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা চলছে, আর সেই উদ্দেশ্যে বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের অফিসে।

সোমবার বিকেলে স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত সিইও দফতরে যাওয়ার আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি—“বড় চুরি ধরা পড়েছে।” পরে অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগের ঝড় তোলেন। অভিষেকের বক্তব্য, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে মানুষ এনে বেআইনি ভাবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি সরাসরি দাবি করেন, প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা দেওয়া হয়েছে একসঙ্গে। নিয়ম অনুযায়ী, এত সংখ্যক ফর্ম জমা পড়লে অন্তত ৬০০ আবেদনকারীকে সশরীরে হাজির থাকতে হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। তাই সিইও দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার জন্য প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “২৪ ঘণ্টার ফুটেজ সামনে আনলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

ফর্ম-৬ মূলত নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিংবা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে। অভিষেকের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়াকেই অপব্যবহার করে বাইরে থেকে ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এই কাজের পিছনে বিজেপির নেতৃত্ব রয়েছে এবং নির্দেশ এসেছে কেন্দ্রীয় স্তর থেকে।

এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ ছুড়েছেন অমিত শাহ-র দিকেও। অভিষেক বলেন, “বাংলার জনবিন্যাস বদলাচ্ছে—এই ভাবেই বদলাচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, কিছু ভোটার বাদ দেওয়া এবং কিছু নতুন ভোটার যুক্ত করার মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব ফেলাই বিরোধীদের কৌশল।

শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি রাজ্যে বিপুল সংখ্যক সরকারি আধিকারিক বদল করা হয়েছে, তাতেও কাজ না হওয়ায় এখন এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “প্রতিনিয়ত বাংলাকে হেনস্থা করা হচ্ছে।”

অভিষেক জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, “নিজের অফিসে কোথায় সিসিটিভি আছে জানেন না, অথচ রাজ্যের হাজার হাজার বুথে সিসিটিভি বসানোর কথা বলছেন!”

তবে নির্বাচন কমিশন এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, অফিস স্থানান্তরের কারণে পুরনো নথিপত্র আনা হচ্ছিল, নতুন করে কোনও ফর্ম জমা পড়েনি। অভিষেক যে অভিযোগ তুলছেন, তা ভিত্তিহীন বলেই দাবি কমিশনের।

এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। সাম্প্রতিক তালিকায় লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়া এবং বহু আবেদন এখনও বিবেচনাধীন থাকা—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযোগ আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ফর্ম-৬ বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও তপ্ত করে তুলল। সত্যিই কি বেআইনি ভাবে ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক অভিযোগ—তার উত্তর এখন সময়ই দেবে।

শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *