হেঁশেলের মেনুতে ছোট্ট বদলেই বড় সাশ্রয়!
চার দিকে গ্যাস নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে এখন অনেকেরই এক প্রশ্ন— কী রান্না করলে স্বাদও থাকবে, আবার গ্যাসও কম খরচ হবে? আসলে একটু বুদ্ধি করে সাপ্তাহিক মেনু সাজালেই এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। রোজ পাঁচ-ছ’টি পদ না করে দু’-তিনটি সহজ, তাড়াতাড়ি রান্না হওয়া পদ রাখলেই সাশ্রয় হবে বেশ খানিকটা। তাতে স্বাদের সঙ্গে আপস করতেই হবে, এমন নয়।
রবিবার মানেই অনেক বাড়িতে পাঁঠার মাংসের আয়োজন। কিন্তু পাঁঠার মাংস কষতে সময়ও লাগে বেশি, গ্যাসও খরচ হয় ঢের। এই সময় তার বদলে মুরগির ঝোল রাখাই ভাল। আগে থেকে দই, সর্ষের তেল, হলুদ আর নুন মাখিয়ে রাখলে মুরগি খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে যায়। কম সময়ে রান্না, আবার খেতেও জম্পেশ।
নিরামিষ দিনের জটিল পদগুলিও আপাতত একটু সরিয়ে রাখা যায়। যেমন ধোঁকার ডালনা। ডাল ভিজিয়ে, বেটে, ভেজে, পরে ঝোলে ফোটানো— গোটা রান্নাটাই বেশ সময়সাপেক্ষ। তার বদলে পনিরের রসা বানানো সহজ, দ্রুত এবং খেতেও চমৎকার। শেষে একটু দই, ঘি আর গরমমশলা মিশিয়ে দিলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
শুক্তো বাঙালির প্রিয়, কিন্তু তা বানাতে আলাদা আলাদা সবজি কাটা, ভাজা, কষানো— সব মিলিয়ে গ্যাসের খরচও অনেক। তার বদলে করলা ভাজা বা নিম-বেগুন রাখলে সেই তেতো স্বাদও থাকবে, আবার রান্নাও হবে অনেক তাড়াতাড়ি।
মোচার মতো শ্রমসাধ্য রান্নাও এখন না করাই ভাল। মোচা পরিষ্কার করা, ভাপানো, কষানো— সব মিলিয়ে বেশ সময় লাগে। এর বদলে পালংশাকের ঘন্ট বা অন্য কোনও হালকা শাকের পদ বানানো অনেক বেশি সুবিধাজনক। শরীরেও পুষ্টি যাবে, সময়ও বাঁচবে।
ডাল বাঙালির খাবারের অপরিহার্য অংশ। তবে নারকেল দিয়ে ছোলার ডালের মতো ভারী পদ না বানিয়ে মুগ বা মুসুর ডাল দিয়েই নানা রকমের রান্না করা যায়। লাউ দিয়ে মুগ ডাল, মুসুর ভর্তা, ডালের চচ্চড়ি— সহজ, পুষ্টিকর আর কম সময়ে তৈরি।
চিংড়ি মাছ রান্না করতে সময় কম লাগে ঠিকই, কিন্তু ভাপা জাতীয় পদে আবার গ্যাস বেশি লাগে। তাই এখন চিংড়ির ঝাল বা বাটিচচ্চড়ি বেশি সুবিধার। একই ভাবে বাঁধাকপির ঘন্ট, আলুপোস্ত, পটলের দোলমার মতো পদও আপাতত এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। এগুলির বদলে লাউ শুক্তো, পোস্তবাটা, পটলের ডালনার মতো সহজ পদ রাখলে রান্না দ্রুত শেষ হবে।
শেষপাতে মিষ্টি চাই-ই। তবে চালের পায়েসের বদলে সিমাইয়ের পায়েস করলে সময়ও কম লাগবে, গ্যাসও বাঁচবে। একটু ঘি আর ড্রাই ফ্রুটস দিলে স্বাদে কোনও খামতি থাকবে না।
আসলে এই সময়ের মন্ত্র একটাই— কম পদ, কম সময়, কম গ্যাস; কিন্তু স্বাদে কোনও ছাড় নয়। একটু পরিকল্পনা করলেই রোজের রান্না হয়ে উঠতে পারে সাশ্রয়ী, সহজ এবং তৃপ্তিকর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?