ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: অ্যাপ বাইক চালকের গল্পে নাড়া খেল নেটদুনিয়া

অ্যাপ বাইক চালকের গল্পে নাড়া খেল নেটদুনিয়া! একটি সাধারণ বাইক রাইড— কিন্তু সেই যাত্রাপথেই উঠে এল আজকের চাকরির বাজারের এক কঠিন বাস্তব। সম্প্রতি এক তরুণী তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সমাজমাধ্যমে,…

February 24, 2026
1 min read

অ্যাপ বাইক চালকের গল্পে নাড়া খেল নেটদুনিয়া!

একটি সাধারণ বাইক রাইড— কিন্তু সেই যাত্রাপথেই উঠে এল আজকের চাকরির বাজারের এক কঠিন বাস্তব। সম্প্রতি এক তরুণী তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সমাজমাধ্যমে, আর সেই পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গেছে। কারণ, যাঁর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল, তিনি আর পাঁচজন বাইকচালকের মতো নন— উচ্চশিক্ষিত, কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে এখন অ্যাপ বাইক চালিয়েই জীবিকা চালাচ্ছেন।

তরুণী জানান, অফিস থেকে বাড়ি ফেরার জন্য তিনি একটি অ্যাপ বাইক বুক করেছিলেন। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়ার পর পথেই শুরু হয় কথোপকথন। প্রথমে ছিল সাধারণ আলাপ— কোথায় কাজ করেন, কী করেন ইত্যাদি। কিন্তু কথার মোড় ঘুরতেই উঠে আসে চালকের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প, যা শুনে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।

চালক জানান, তিনি গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। শুধু তাই নয়, শিক্ষক হওয়ার আশায় বিএড প্রশিক্ষণও সম্পূর্ণ করেছেন। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে সরকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছেন। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও চাকরি জোটেনি। শেষ পর্যন্ত সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে এখন বাইক চালান।

কথা বলতে বলতে চালক তরুণীর কাছে একটি অনুরোধও করেন— কোথাও চাকরির সুযোগ থাকলে যেন তিনি জানিয়ে দেন, কিংবা সম্ভব হলে সুপারিশ করেন। সেই অনুরোধ শুনে তরুণী আরও বিস্মিত হন। তিনি পরে লেখেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে শুনি— ভালো করে পড়াশোনা করলে জীবন নিরাপদ হবে। কিন্তু বাস্তবে যখন একজন সব যোগ্যতা অর্জন করেও কাজ পাচ্ছেন না, তখন প্রশ্ন জাগে— তাঁর ভবিষ্যৎ কী?”

এই পোস্ট সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এটি শুধু একজনের গল্প নয়— বরং দেশের বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন। কেউ লিখেছেন, “ডিগ্রি অর্জনের পরও যদি স্থায়ী কাজ না মেলে, তাহলে নতুন প্রজন্ম পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাবে।” আবার কেউ বলেছেন, “এই গল্প আমাদের চাকরির কাঠামো ও সুযোগের অভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।”

অনেকেই ওই চালকের অধ্যবসায় ও আত্মসম্মানের প্রশংসাও করেছেন। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের পরিশ্রমে সৎভাবে রোজগার করার মানসিকতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

সব মিলিয়ে, একটি সাধারণ যাত্রাপথের এই কথোপকথন সমাজের বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে— শুধু ডিগ্রি অর্জনই কি আজকের দিনে জীবনের স্থিতি নিশ্চিত করতে পারে? নাকি প্রয়োজন আরও বিস্তৃত কর্মসংস্থান ও বাস্তবসম্মত সুযোগ?

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *