‘আফ্রিকার চে’ কি এখন সংকটে?
পশ্চিম আফ্রিকার অশান্ত দেশ Burkina Faso আবারও রক্তাক্ত। একের পর এক সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় নতুন করে চাপে পড়েছেন দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট Ibrahim Traore। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি দেখে বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন— জনপ্রিয় এই তরুণ সামরিক শাসকের ক্ষমতা কি এবার টালমাটাল হতে চলেছে?
টানা চার দিনের ভয়াবহ হামলা
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে একাধিক সেনাছাউনিতে আঘাত হানে শতাধিক জঙ্গি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের পূর্বাঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলগুলো।
১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম হামলা হয় বেলাঙ্গা সেনাঘাঁটিতে। এরপর চিটাও, তানজারি এবং শেষে নারে এলাকায় সেনা ছাউনিগুলিতে পরপর আক্রমণ চালানো হয়।
হামলাগুলি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। সশস্ত্র জঙ্গিরা হঠাৎ আক্রমণ করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে বহু সেনা ও অফিসার নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে বলে অনুমান, যদিও সরকারিভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
কারা এই হামলার নেপথ্যে?
কোনও সংগঠন সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে এই হামলার পেছনে রয়েছে দুই কুখ্যাত জঙ্গি নেটওয়ার্ক— Al-Qaeda এবং Islamic State।
পাশাপাশি দেশ মালি ও নাইজারের সীমান্তে এদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে, সেখান থেকেই হামলার পরিকল্পনা হয়েছে বলে ধারণা।
‘আফ্রিকার চে’— জনপ্রিয়তা বনাম বাস্তবতা
২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ক্যাপ্টেন ট্রায়ো। বয়সে তরুণ এবং ফরাসি প্রভাব কমানোর অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে অনেকেই ‘আফ্রিকার চে গেভারা’ বলে অভিহিত করেন।
ক্ষমতায় এসে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— উন্নয়ন, অবকাঠামো গঠন এবং সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপের।
তবে বাস্তবে গত কয়েক বছরে জঙ্গি হামলা বরং বেড়েছে। গ্রামীণ ও সীমান্ত অঞ্চলে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে।
দ্বিমুখী সংকটে সরকার
একদিকে জঙ্গি সংগঠনগুলির শক্তি বৃদ্ধি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট— এই দুই চাপে এখন ট্রায়ো সরকারের সামনে কঠিন সময়। সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হওয়া মানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিতেই ধাক্কা লাগা।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সামনে কী?
এখন নজর— ট্রায়ো সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে। সেনা অভিযান জোরদার করে জঙ্গিদের দমন করা সম্ভব হবে, নাকি সন্ত্রাসের এই ঢেউ আরও বড় রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনবে— সেটাই দেখার।
স্পষ্টই বলা যায়, জনপ্রিয়তা দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু নিরাপত্তা ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক বাস্তবতা খুব দ্রুত বদলে যায়। আর সেই কঠিন পরীক্ষার মুখেই এখন দাঁড়িয়ে রয়েছেন ‘আফ্রিকার চে’ ইব্রাহিম ট্রায়ো।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই