আট দিনের নাটকীয় মোড়!
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের নেতৃত্বে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্রিকেট দলকে ছাড়পত্র দিয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে টানা কয়েক দিনের কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় তৎপরতা। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। ওই বৈঠকেই আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। জানা যায়, রবিবার রাতে আইসিসি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছিল। একই অনুরোধ এসেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও শ্রীলঙ্কার তরফ থেকেও।
শুধু তাই নয়, রবিবার বিকেলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়কের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। দুই দেশের পুরনো বন্ধুত্ব এবং অতীতে কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার প্রসঙ্গ উঠে আসে সেই আলোচনায়। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান।
এই সব আলোচনা ও ‘বন্ধু দেশগুলির’ অনুরোধের নির্যাস হিসেবেই পাকিস্তান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্রিকেটের সংস্কৃতি বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে খেলাটিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ পাকিস্তান দলের ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, মাঠে খেলোয়াড়সুলভ আচরণ বজায় রাখবেন তাঁরা— এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, সোমবার রাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো হয়। বিসিবি তাদের বিবৃতিতে আইসিসি, পিসিবি এবং বিশেষ করে মহসিন নকভির ভূমিকার প্রশংসা করে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান যে ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ হলে ক্রিকেটের গোটা বাস্তুতন্ত্রই উপকৃত হবে।
এর কিছু আগেই সাংবাদিক বৈঠকে নকভি কড়া সুরে জানিয়েছিলেন, ভারত ম্যাচ বয়কট করলে আইসিসির শাস্তির হুমকিতে তিনি বা পাকিস্তান সরকার ভয় পায় না। সেই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও, বাস্তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি।
নকভি আগেই বলেছিলেন, আইসিসি ও বিসিবির জবাব পাওয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রীকে চূড়ান্ত পরামর্শ দেওয়া হবে। যদিও সবাই যখন ‘কাল বা পরশু’ ঘোষণার অপেক্ষায়, তখন তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল পাকিস্তান সরকার।
সব মিলিয়ে, আট দিনের টানাপড়েন, কূটনৈতিক চাপ ও ক্রিকেটীয় বাস্তবতার সমন্বয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে সেই বহু প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হতে চলেছে— যা নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই