প্রথম বলেই ছক্কার প্রতিজ্ঞা, সেরার তকমা নয়— জয়ের নেশাতেই হার্দিক পাণ্ড্য

জয়ের নেশাতেই হার্দিক পাণ্ড্য! অহমদাবাদের মাঠে সেই ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসে ভর করা প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে রইল হার্দিক পাণ্ড্যের জন্য। ব্যাট হাতে ঝোড়ো ২৫ বলে ৬৩ রান,…

December 20, 2025
1 min read

জয়ের নেশাতেই হার্দিক পাণ্ড্য!

অহমদাবাদের মাঠে সেই ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসে ভর করা প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে রইল হার্দিক পাণ্ড্যের জন্য। ব্যাট হাতে ঝোড়ো ২৫ বলে ৬৩ রান, বল হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট— সব মিলিয়ে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হলেও হার্দিক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ব্যক্তিগত স্বীকৃতি তাঁর লক্ষ্য নয়। তাঁর কাছে আসল হল দলের জয়।

ম্যাচের পরিস্থিতি ছিল চাপের। সূর্যকুমার যাদব আউট হতেই ভারতের ইনিংসে একটু থমথমে ভাব। ঠিক সেই সময়ই ব্যাট হাতে নামেন হার্দিক। আর নামার সঙ্গেই বাজিমাত। প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেন, আজ অন্য মেজাজে খেলতে নেমেছেন তিনি। পরে ম্যাচ শেষে হার্দিক নিজেই স্বীকার করেন, এই ছক্কা কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না। মাঠে নামার আগেই ঠিক করে নিয়েছিলেন।

হার্দিক বলেন, “এই মাঠে আমি বহু ম্যাচ খেলেছি। পিচটা আমার চেনা। জানতাম ব্যাটে বল ভালোভাবে আসবে। তাই ঠিক করেছিলাম, প্রথম বলেই বড় শট খেলব।” মজার বিষয় হল, মাঠে নামার আগে এই পরিকল্পনার কথা তিনি নিজের বান্ধবীকেও জানিয়েছিলেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মাহিকা শর্মা। অর্ধশতরান পূর্ণ হওয়ার পর গ্যালারির দিকে তাকিয়ে হাসি আর উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দেন হার্দিক— সেই মুহূর্তটিও দর্শকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে।

মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির নজির গড়েন হার্দিক। যদিও তিনি নিজেই জানতেন না যে এমন একটি রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। আউট হয়ে ফেরার পরে সতীর্থরা বিষয়টি জানালে হাসতে হাসতে বলেন, “ভাবলাম, অল্পের জন্য রেকর্ডটা ভাঙা হল না।” পরে অবশ্য পরিষ্কার করে দেন, তিনি খুশিই যে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড এখনও যুবরাজ সিংহের দখলেই রয়েছে।

এই ইনিংসের গুরুত্ব আরও বাড়ে হার্দিকের সাম্প্রতিক অতীতের দিকে তাকালে। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে চোট পাওয়ার পর প্রায় দু’মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। সেই সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু হার্দিক মনে করেন, কঠিন সময়ই আসলে একজন ক্রিকেটারকে গড়ে তোলে। তাঁর কথায়, “খারাপ সময় আসবেই। সেখান থেকে কীভাবে ফিরে আসছেন, সেটাই আসল। আমি নিজের উপর কাজ করেছি, পরিশ্রম করেছি। আজ তার ফল পেয়েছি।”

ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতে নিয়েও হার্দিক বারবার একটাই কথা বলেছেন— তিনি পুরস্কারের জন্য খেলেন না। “আমি মাঠে নামি দলকে জেতাতে। যদি সেটা করতে পারি, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। সেরা হওয়ার লোভ কোনও দিনই ছিল না,” বলেন তিনি।

হার্দিকের এই ঝড়ো ইনিংস সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন তিলক বর্মা। ম্যাচ শেষে তিলক জানান, হার্দিকের ব্যাটিং দেখে তিনি সত্যিই মুগ্ধ। “যা মারছিল, সব গ্যালারিতে গিয়ে পড়ছিল। ও থাকায় আমার ব্যাটিং অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল,” বলেন তিলক।

সব মিলিয়ে অহমদাবাদের সেই রাত হার্দিক পাণ্ড্যের কাছে শুধু একটি ম্যাচ জেতার স্মৃতি নয়, বরং নিজের প্রমাণ দেওয়ার, প্রতিশ্রুতি রাখার আর দলের জন্য খেলতে পারার এক অনন্য অধ্যায় হয়ে রইল।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *