জাস্টিন ট্রুডো–কেটি পেরির সম্পর্ক প্রকাশ্যে, কী ভাবে কাছাকাছি এলেন দু’জনে?
অবশেষে জল্পনার ইতি। মাসের পর মাস ধরে চলা ফিসফাস, অনুমান, কানাঘুষো—সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে নিজেরাই সামনে এলেন জাস্টিন ট্রুডো এবং কেটি পেরি। সামাজিক মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন তাঁদের সম্পর্কের কথা। ৫ ডিসেম্বর কেটি তাঁর জাপান সফরের বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিয়ো শেয়ার করেন, আর সেই ছবিতেই প্রকাশ্যে চলে আসে কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন পপ তারকার নতুন প্রেমকাহিনি।
তাঁদের প্রেমের সূচনা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি। আচমকাই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়—ট্রুডো কি নতুন সম্পর্কে? সেই সময় অবশ্য দু’পক্ষের কেউই কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু তার পর থেকে একাধিক গোপন সাক্ষাৎ, অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরা পড়া ছবি ক্রমেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল অন্য গল্প।
অক্টোবরের এক দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার উপকূলে একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে দেখা পাওয়া যায় তাঁদের। কেটির পরনে কালো রঙের সংক্ষিপ্ত সাঁতার-পোশাক, চুল বাঁধা চুড়োয়। ট্রুডোর গায়ে নেই কোনও উপরের পোশাক—নিচে শুধুই ডেনিম ট্রাউজ়ার। সাগরের ঢেউয়ের পাশে, দূরে লোকচক্ষুর আড়ালে তাঁরা কাটাচ্ছিলেন ব্যক্তিগত সময়। কিন্তু পাপারাৎজ়ির ক্যামেরা এড়ানো গেল না। সারা দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় কেটির বাহুপাশে ট্রুডোর সেই রোম্যান্টিক ছবি।
পরে আরও স্পষ্ট হল বিষয়টি—চুম্বনরত অবস্থায় ধরা পড়লেন তাঁরা। কেটি ট্রুডোর গলা জড়িয়ে চুম্বন করছেন, ট্রুডোও গালে স্পর্শ করছেন পপ তারকার। এই ছবিই সিলমোহর দেয় তাঁদের সম্পর্কের আলোচনায়।
তবে প্রথম দেখা হয়েছিল আরও আগেই—জুলাই মাসে মনট্রিলের এক জনপ্রিয় রেঁস্তরায়। ‘ল ভিওলোন’-এ একান্ত ডিনারে মুখোমুখি বসেছিলেন তাঁরা। গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ছবি এবং দু’জনের মুখে ঝলসে ওঠা খুশি—ইঙ্গিত দিচ্ছিল সম্পর্কের গভীরে। জানা যায়, কেটি নাকি ট্রুডোর সঙ্গে দেখা করতে পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কানাডায় গিয়েছিলেন।
জাপান সফরেই সব প্রকাশ্যে আসে। টোকিয়োর রাস্তায় গাল-ঠেকানো আদুরে ছবি, একটি ভিডিয়োয় একসঙ্গে সুশি খাওয়া—সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। ‘টোকিয়ো টাইমস অন ট্যুর অ্যান্ড মোর’ শিরোনামের কেটির আপলোডই স্পষ্ট করে দেয়—এবার আর লুকোছাপা নয়।
জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ফুমিয়ো কিশিদা এবং তাঁর স্ত্রী ইউকোর আমন্ত্রণে এক কূটনৈতিক ভোজেও একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন ট্রুডো ও কেটি। সেখানে তোলা একটি ছবি ট্রুডো নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেন—আর তাতেই সরকারি স্বীকৃতির মতো ছাপ পড়ে সম্পর্কের ওপর।
উভয়েরই অতীত সম্পর্কও ছিল আলোচিত। ট্রুডোর ১৮ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যায় ২০২৩ সালে। স্ত্রী সোফির সঙ্গে তিন সন্তানের বাবা তিনি। বিচ্ছেদের পর থেকেই ট্রুডোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠে আসে।
অন্যদিকে, কেটি পেরির প্রেমজীবনও কম আলোচিত নয়। অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, বাগদান, একটি কন্যাসন্তান—তারপর বিচ্ছেদ। তার আগেই রাসেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে বিয়েও ভেঙে গিয়েছিল নানা বিতর্কে।
এবার নতুন অধ্যায় শুরু করলেন দু’জনে। একদিকে কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, অন্য দিকে আন্তর্জাতিক পপ আইকন—তাঁদের সম্পর্ক এখন বৈশ্বিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। জাপান সফরের ছবিগুলোই বলে দিচ্ছে, ট্রুডো ও কেটি পেরি আর গুঞ্জনের জুটি নন; তাঁরা বাস্তবের প্রেমিক-প্রেমিকা, এবং নিজেদের সম্পর্ককে সামনে আনতে দ্বিধাহীন।