ট্রয়ের ঘোড়া!
ইসলামাবাদের ওই বৈঠকে মির্জ়া ভারতের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট— পাকিস্তান ভারতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারের কৌশলী খেলোয়াড় হিসেবে দেখছে।
তাঁর মতে, ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলির সামনে বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও “আসলে তলে তলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও নিরাপত্তা ভারসাম্য নষ্ট করছে”।
জাতিসংঘের কাশ্মীর বিষয়ক প্রস্তাব উদ্ধৃত করে তিনি দাবি করেন, “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে ভারত।”
🌍 কাশ্মীর ইস্যু: তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সওয়াল
জেনারেল মির্জ়া বলেন, “কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দরকার।” তাঁর দাবি, পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ আলোচনায় রাজি, কিন্তু ভারত বারবার সংঘাতে উস্কানি দিচ্ছে।
এই মন্তব্যের ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
👉 আরও পড়ুন: ভারতের কূটনৈতিক নীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি
📜 অতীতেও একই সুর
এর আগেও ২০২৫ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুরের সাংগ্রি-লা ডায়ালগে একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন মির্জ়া। তিনি বলেছিলেন,
“সমস্যা সাময়িকভাবে ঠেকানো যায়, কিন্তু মূল কারণ না মিটলে সংঘাত শেষ হয় না।”
সেই সময়ও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকা জোরদার করার কথা বলেন তিনি।
এ বার ইসলামাবাদের মঞ্চে তাঁর বক্তব্যে আবারও প্রতিধ্বনিত হল সেই সুর।
📊 সারসংক্ষেপ
| দিক | ভারতের অবস্থান | পাকিস্তানের অবস্থান |
|---|---|---|
| কাশ্মীর সমস্যা | দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পক্ষপাতী | আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার দাবি |
| সামরিক নীতি | প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক রাজনীতি | ‘আধিপত্যবাদ’ বলে অভিযোগ |
| আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাব | উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতৃত্বে | ‘ট্রয়ের ঘোড়া’ হিসেবে সমালোচনা |
🔗 আরও প্রাসঙ্গিক লিংক
- ভারত-পাক সম্পর্ক: নতুন উত্তেজনার সূচনা?
- পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা
- কাশ্মীরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি – NDTV রিপোর্ট
উপসংহার:
জেনারেল মির্জ়ার মন্তব্য নতুন কিছু নয়, তবে সময়টা তাৎপর্যপূর্ণ। যখন ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নয়নশীল বিশ্বের নেতৃত্ব নিচ্ছে, তখন পাকিস্তানের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও ঘনীভূত করতে পারে।