দশমীর দুপুরে কলকাতায় প্রবল বর্ষণ!
দশমীর সকাল থেকেই কলকাতা ও শহরতলিতে আকাশ মেঘলা। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে দুপুরের দিকে মুষলধারে বর্ষণ নেমেছে শহরে, যা আকাশকে কালো করে দিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টায় কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
নবমীর রাত থেকেই শহরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। দশমীর সকালেও আকাশের ভাঁজ ভারী ছিল। দুপুর ১২টার দিকে ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছে, যা পুজোর আনন্দকে খানিকটা ভিজিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বড় মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ছাতা এবং অন্যান্য বৃষ্টির প্রতিরোধক সঙ্গে রাখা উচিত।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ ধীরে ধীরে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে পুরো দিন কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপটি ওড়িশার গোপালপুর উপকূল থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে এবং বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে এটি ভূ-ভাগে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ওড়িশা ও সংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল বরাবর এগোতে পারে।
আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতার সর্বাধিক তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও একই ধরনের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েকদিনে রাতভর বৃষ্টির ফলে শহরের কিছু নিচু জায়গায় জল জমে গিয়েছিল। এবারের বর্ষণেও সেই ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জল জমা রোধে সতর্ক রয়েছে।
দশমীর এই বৃষ্টি শহরের পুজোর উৎসবকে খানিকটা ভিজিয়ে দিলেও আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামিকাল একাদশীতোও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুজো দর্শনার্থীদের ছাতা, কোট বা অন্যান্য বৃষ্টির প্রতিরোধক সঙ্গে রাখতে হবে।
শহরের বিভিন্ন বড় পুজোমণ্ডপ ও গলি-মহল্লায় এই বৃষ্টির কারণে চলাচলে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু ধ্রুবক মনোযোগ ও সতর্কতা বজায় রেখে আনন্দের সঙ্গে দুর্গাপুজো উদযাপন সম্ভব। দশমীর এই দুপুরে কলকাতার আকাশ কালো হলেও, পুজোর উৎসবের আনন্দ এবং ভক্তি যেন বৃষ্টির ছায়ায়ও অটুট থাকে।