জ়ুবিনকে দেখার দায়িত্ব ছিল সিদ্ধার্থের!
অসমের জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। তাঁর হঠাৎ প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতজগতে, কিন্তু কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। তদন্তে এখন উঠে আসছে একাধিক নতুন দিক। এবার সেই তদন্তে মুখ খুললেন অসমের অভিনেত্রী নিশিতা গোস্বামী। শনিবার গুয়াহাটির সিআইডি দফতরে হাজির হয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ তুললেন, জ়ুবিনের মৃত্যুর দায় অনেকটাই তাঁর আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মার।
নিশিতা বলেন, “জ়ুবিন ঠিক আছেন কি না, তা দেখার দায়িত্ব ছিল সিদ্ধার্থের। কিন্তু ওঁর প্রতি কোনও খেয়ালই রাখা হয়নি। এমন গাফিলতির কারণেই আজ এই অঘটন ঘটেছে।” গায়কের মৃত্যুর সময় তিনিও সিঙ্গাপুরে উপস্থিত ছিলেন। তাই তদন্তকারীরা তাঁকে ডেকে পাঠান এবং ঘটনার দিন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত কী কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। নিশিতা জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও জানান, জ়ুবিনের মৃত্যুর পরেও সিঙ্গাপুরে চলছিল ‘নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এর ফ্যাশন শো। এই তথ্য নিয়েও তদন্তকারীরা তাঁকে প্রশ্ন করেন। নিশিতা বলেন, “ওখানে কী দেখেছি, কী ঘটেছিল— সব কিছু নিয়েই আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে।”
শুধু নিশিতা নন, জ়ুবিনের ব্যান্ডের প্রাক্তন সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী এবং গায়ক অমৃতপ্রভ মহান্তকেও সিআইডি সমন পাঠিয়েছে এবং তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়াও তদন্তকারীরা সমন পাঠিয়েছে জ়ুবিনের আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ‘নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজক শ্যামকানু মহান্তকেও। মৃত্যুর আগে জ়ুবিনের সঙ্গে থাকা ১১ জন ব্যক্তিকেও আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিআইডি।
এই জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযোগের মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে জ়ুবিন ও নিশিতার পুরনো সম্পর্কের কথাও। অসমের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিশিতা ‘রং’, ‘রত্নাকর’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন। মঞ্চেও তিনি নিয়মিত পারফর্ম করেন। একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন জ়ুবিন ও নিশিতা। তবে ২০২১ সালে এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। জ়ুবিন নাকি তখন একটি লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছিলেন, যার পরে আর যোগাযোগ ছিল না তাঁদের মধ্যে।
তবু, পেশাদার সম্পর্কের সূত্রে ‘নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এ উপস্থিত ছিলেন নিশিতা। আর সেখানেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক ঘটনা। ফলে তদন্তকারীদের কাছে তাঁর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নিশিতার অভিযোগ নতুন প্রশ্নও তুলছে— জ়ুবিনের মতো একজন জনপ্রিয় শিল্পীর নিরাপত্তা ও যত্ন নেওয়ার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা কি সত্যিই দায়িত্ব পালন করেছিলেন? আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ কি অবহেলা করেছেন? তাঁর অবহেলার ফলেই কি হারাতে হল অসমের সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠকে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সিআইডি।
অসমবাসীর কাছে জ়ুবিন গার্গ ছিলেন শুধু এক জন গায়ক নন, ছিলেন আবেগ ও গর্বের প্রতীক। তাঁর মৃত্যু এখন তদন্তের জটিল জালে আটকে গেছে। সেই জট খুলতে এখন একে একে ডাকা হচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শীদের। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নজর রাখছে গোটা অসম।
নিশিতার মন্তব্যে আপ্তসহায়কের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন দেখার, সিআইডির তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, এবং জ়ুবিনের মৃত্যু নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর কখন মিলবে।
পুজোর সময়ে কিউআর কোড স্ক্যানের আগে সতর্ক থাকুন: সাইবার প্রতারণা এড়ানোর টিপস