তবু ইতিহাস গড়ল ‘রং দে বসন্তী’: স্মৃতিচারণে সোহা আলি খান
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রং দে বসন্তী’ আজও দর্শকদের হৃদয়ে এক বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে। আমির খান, কুণাল কপূর, মাধবন, সিদ্ধার্থ, শ্রমান জোশী এবং সোহা আলি খানের অভিনীত এই ছবিকে শুধু একটি সিনেমা নয়, অনেকেই একটি আন্দোলন বলে মনে করেন। কিন্তু সাফল্যের এই কাহিনির নেপথ্যে আছে এমন এক ঘটনা, যা সম্প্রতি জানালেন সোহা নিজেই।
সোহা আলি খান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রযোজকরা ছিলেন দুশ্চিন্তায় ভরা। তাঁদের ভয় ছিল—এমন সামাজিক বার্তাধর্মী গল্প দর্শক কতটা গ্রহণ করবেন? বাণিজ্যিক দিক থেকে ছবিটি আদৌ টিকবে তো? সেই আতঙ্কে প্রযোজকেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফোন করে একটি অপ্রত্যাশিত অনুরোধ করেছিলেন।
সোহা বললেন, “ছবির প্রচার চলাকালীন প্রযোজক আমাদের ফোন করে বলেন, ‘আপনাদের দেওয়া পারিশ্রমিকের কিছুটা ফেরত দিতে পারবেন কি? কারণ, ছবিটি আদৌ চলবে কি না আমরা নিশ্চিত নই।’ তখন আমাদেরও মনে হচ্ছিল, কে জানে, ছবিটা আদৌ সফল হবে কি না!”
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, অভিনেতারাও প্রযোজকের এই অনুরোধ মেনে নেন। সোহা জানালেন, সবাই টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। তখন তাঁদের মনে হয়েছিল, ক্ষতি হবে হয়তো, কিন্তু অন্তত একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা টিকিয়ে রাখা দরকার। কেউই ভাবতে পারেননি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই ছবিই দেশের সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে উঠবে।
ছবিটি মুক্তির পর শুধু বক্স অফিসেই সফল হয়নি, মানুষের মনে ঢেউ তুলেছিল তার বার্তা। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, হতাশা, বিদ্রোহ আর দায়িত্ববোধকে তুলে ধরে ছবিটি যেন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল দেশপ্রেমকে। সোহা বললেন, “রং দে বসন্তী শুধু ছবি নয়, এটি আমার জীবনে এক বাঁকবদল। আমার ক্যারিয়ারের এমন একটি কাজ, যা আমার সঙ্গে আজীবন থাকবে।”
প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও দর্শকরা আজও ‘রং দে বসন্তী’কে মনে রাখেন। অনেকে মনে করেন, এমন ছবি আবার তৈরি করা মুশকিল। যে ছবিটি তখন অনিশ্চয়তায় ভরা ছিল, সেটিই আজ এক যুগান্তকারী উদাহরণ।
অভিনয় জীবনের প্রসঙ্গেও সোহা বললেন, দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবার পর্দায় ফিরেছেন। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গিয়েছে ‘ছোরি ২’-এ, যা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে তিনি সর্বশেষ কাজ করেছিলেন ২০১৮ সালের ‘সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার ৩’-এ।
তবে যতই নতুন কাজ আসুক, ‘রং দে বসন্তী’-র মতো ছবি সোহা আলি খানের কাছে বিশেষই থেকে যাবে। কারণ, সেই ছবিই তাঁকে শিখিয়েছে—সন্দেহ, অনিশ্চয়তা আর ভয়ের মাঝেও কখনও কখনও শিল্পই সবচেয়ে বড় উত্তর হয়ে দাঁড়ায়।