সুপ্রিম কোর্টে বিস্তৃত তালিকা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের অন্যতম বড় দাবি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ। কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা নির্দিষ্ট হারে ডিএ পেলেও, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই হার মিলবে কি না, তা নিয়ে বহু দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। আর সেই বিতর্কই পৌঁছেছে দেশের শীর্ষ আদালতে।
সম্প্রতি ডিএ মামলার শুনানি শেষ হলেও সুপ্রিম কোর্ট এখনও রায় ঘোষণা করেনি। তবে বিচারপতিরা জানিয়ে দিয়েছিলেন—যদি কোনও পক্ষের বক্তব্য থেকে থাকে, তবে তা লিখিত আকারে জমা দিতে হবে। সেই মতো সোমবার নিজেদের লিখিত বক্তব্য জমা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
১২ রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয় না
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, দেশের অন্তত ১২টি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয় না। তালিকায় আছে কেরল, ছত্তীসগঢ়, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, তেলঙ্গানা এবং ত্রিপুরা। এর মধ্যে কেরল ও কর্নাটক ছাড়া প্রায় সব ক’টি রাজ্যে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিজেপির শাসন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের যুক্তি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, কর্মীদের বেতন বা ভাতা নির্ধারণের অধিকার সংবিধানের ৩০৯ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজ্যগুলির হাতে ন্যস্ত। তাই কেন্দ্রের হুবহু নীতি অনুসরণ করতে রাজ্যগুলি বাধ্য নয়। আদালত আগেও একই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
রাজ্যের বক্তব্য, ডিএ দেওয়া নির্ভর করে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা, অগ্রাধিকার এবং কর্মীদের জন্য আগে থেকে দেওয়া অন্যান্য সুবিধার উপর। ফলে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ হার না মিললেও তা আইনবিরুদ্ধ নয়। আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—ডিএ কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার নয়, বরং এটি প্রশাসনিক নীতিনির্ভর ভাতা।
আদালতে জমা দেওয়া আরও তথ্য
রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে জানিয়েছেন, ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) মেনে ডিএ নির্ধারণ করে না বহু রাজ্য। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ছত্তীসগঢ়, মেঘালয়, হিমাচল প্রদেশ এবং সিকিমের মতো রাজ্যগুলিতেও নিয়মে সিপিআই উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ডিএ হারে ভিন্নতা রয়েছে।
মামলার পটভূমি
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের হারে রাজ্য সরকারি কর্মীদেরও ডিএ দিতে হবে—এই দাবিতেই শুরু হয়েছিল মামলা। প্রথমে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (এসএটি), তারপর কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে। ট্রাইব্যুনাল ও হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, রাজ্য কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়ার অধিকারী নন। তবুও মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ, রাজ্য খেয়ালখুশি মতো ডিএ দিচ্ছে, যা কর্মীদের প্রতি অন্যায়।
মামলাকারী পক্ষের অবস্থান
সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবীদের মতে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিএ দেওয়ার নিয়ম মেনে চলা সরকারের দায়িত্ব। প্রয়োজনে বকেয়া ডিএ কিস্তিতে দিলেও চলবে। তাঁদের দাবি, বেতন কমিশনের সুপারিশ মানা বাধ্যতামূলক।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
সোমবার রাজ্যের বক্তব্য আদালতে জমা হলেও মামলাকারী কর্মচারীদের আইনজীবী করুণা নন্দী জানিয়েছেন, তাঁরা পাল্টা বক্তব্য জমা দেবেন। আদালত ইতিমধ্যেই তাদের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলাকারী পক্ষের লিখিত বক্তব্য পাওয়ার পরই রায় ঘোষণা করা হবে।