বিরিয়ানি-পিৎজা ছেড়ে ফিটনেসের শিখরে সিরাজের যাত্রা!
ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজের অন্যতম নায়ক মহম্মদ সিরাজ। পাঁচটি টেস্টে, ন’টি ইনিংসে ১৮৫.৩ ওভার বল করার পরও যে বল করেছিলেন একই তেজে, সেটা সহজ সাধ্য নয়। এই কঠোর পরিশ্রম আর ফিটনেসের পেছনে আছে সিরাজের দৃঢ় মানসিকতা, পরিবারের আশীর্বাদ আর নিজের স্বপ্নপূরণের তাগিদ। কীভাবে তিনি এত বল করে ২৩ উইকেট নিতে পেরেছেন? চলুন, জেনে নেওয়া যাক তাঁর সাফল্যের অনুপ্রেরণার গল্প।
সিরাজের ভাই মহম্মদ ইসমাইল জানালেন, সিরাজ কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপন করেন। “ও বাইরের জাঙ্ক ফুড একদম বন্ধ করে দিয়েছে। বিরিয়ানি তো হায়দরাবাদেও খুব কম খায়, সেটাও তখনই যখন বাড়িতে রান্না হয়। পিৎজা-হামবাগার–সব বন্ধ। শুধু নিজের স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস নিয়েই ও মনোযোগী।” ইসমাইলের কথায় বোঝা যায়, সিরাজ জীবনের সবখানেই নিজের সেরাটা দিতে চান।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে সুযোগ না পাওয়া সত্ত্বেও সিরাজ হতাশ হননি। বরং উল্টো তার এই ক্ষোভই ওকে আরও কঠোর পরিশ্রমে প্ররোচিত করেছে। “ও হার মানে না। জিমে নিয়মিত যায়, অনুশীলনে কখনো ছাড় দেয় না,” বলেন ইসমাইল।
ইংল্যান্ড সফরের আগে সিরাজ বাবার কবরের সামনে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর বাবা মহম্মদ ঘৌসের একটাই স্বপ্ন ছিল ছেলে ভারতের হয়ে খেলে শীর্ষস্থান অধিকার করবে। দুঃখের কথা, সিরাজের অভিষেকের আগেই বাবা মারা গিয়েছিলেন। বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই সিরাজ মাঠে নামেন, আর তাঁদের ভালোবাসার কথা মনে রেখেই খেলেন প্রতিটা বল।
সিরাজের মা শাবানা বেগম বলেছিলেন, “সে যাওয়ার আগে আমার কাছে বলেছিল, ‘মা, আমার জন্য প্রার্থনা করো, যেন আমি ভালো খেলতে পারি, দেশের জন্য সেরা পারফর্ম করতে পারি।’ এরপর বাবার কবরের সামনে গিয়ে ও প্রার্থনা করেছিল। ওর বাবা-মায়ের আশীর্বাদ সবসময় ওর সঙ্গে আছে।”
ইংল্যান্ডে খেলার সময় প্রতিদিন নিয়ম করে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সিরাজ। ইসমাইল জানান, “মা তাঁর জন্য প্রতিদিন প্রার্থনা করে। সেই আশীর্বাদ তাঁর শক্তির উৎস।”
সিরাজের এই মনোবল ও ফিটনেসের পিছনে রয়েছে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে অনুপ্রেরণার সম্পর্কও। ইসমাইল বলেন, “বিরাট কোহলির ফিটনেস দেখে সিরাজও নিজেকে উন্নত করেছে।”
লর্ডসের ম্যাচে সিরাজের আউট হওয়ার পর ভারত হেরেছে, কিন্তু ওভাল টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর পাঁচ উইকেট ভারতের জয় এনে দিয়েছে। সিরাজের ৯ উইকেটই দলকে জেতাতে সাহায্য করেছে। শেষ উইকেটটি নিয়েই তিনি এক প্রকার নিজের একটি অধ্যায়ের সম্পূর্ণতা ঘটিয়েছেন।
সিরাজের জন্য ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, এটা বাবার স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার, নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই। তাঁর গল্প আমাদের শেখায়—শৃঙ্খলা, পরিশ্রম আর পরিবারের ভালোবাসা মিললে অসাধ্য সাধন করা যায়।
প্রোটিন খেয়ে মেদ ঝরাতে গিয়ে বেড়ে যেতে পারে ওজন, কোন ভুলে এমন হতে পারে?