‘একাদশ মিনিটের দৌড়’: গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের করুণ বাস্তবতা

'একাদশ মিনিটের দৌড়: গাজার' একটা থালা ভাত, কিছুটা খাবার—এইটুকুর জন্য আজ গাজায় মানুষকে দৌড়াতে হয়। সময় মাত্র ১১ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে যদি দৌড়ে পৌঁছতে না পারেন, তাহলে হয়তো সেদিন…

July 23, 2025
1 min read

‘একাদশ মিনিটের দৌড়: গাজার’

একটা থালা ভাত, কিছুটা খাবার—এইটুকুর জন্য আজ গাজায় মানুষকে দৌড়াতে হয়। সময় মাত্র ১১ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে যদি দৌড়ে পৌঁছতে না পারেন, তাহলে হয়তো সেদিন আর মুখে খাবার জোটে না। ধ্বংসস্তূপের শহর গাজায় এখন এটাই রোজনামচা।

ইজরায়েল-হামাস সংঘাত গাজার মাটি ছারখার করে দিয়েছে। ঘর নেই, জলের সঠিক সংস্থান নেই, বিদ্যুৎ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর হল—খাবার নেই। জাতিসংঘের একাধিক রিপোর্ট জানিয়েছে, গাজা এখন ‘চরম খাদ্য সংকটের’ মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, শিশুদের পুষ্টিহীনতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

এই অবস্থার মধ্যেই কোনও এক সংস্থার পক্ষ থেকে কখনও কখনও অল্প কিছু খাবার দেওয়া হয়। সেই খাবার বিতরণের জায়গায় পৌঁছতে হলে শুরু হয় এক অদ্ভুত দৌড় প্রতিযোগিতা। নাম দেওয়া হয়েছে—’১১ মিনিটের দৌড়’। ঠিক ১১ মিনিট সময় দেওয়া হয় আশেপাশের মানুষদের খাবার পৌঁছনোর জন্য। এই সময়ের মধ্যেই কে আগে পৌঁছবে, কে আগে পাবেন সেই খাবারের একটি থালা—এই লড়াইয়ে জীবন-মরণ পর্যন্ত হয়ে উঠছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সকলেই খালি পায়ে বা পায়ে ছেঁড়া চপ্পল পরে ছুটছেন। কেউ পড়ে গেলে তাঁকে কেউ তুলতে পারছেন না—কারণ একটু থেমে গেলে হয়তো খাবার শেষ। শিশুদের কোলে নিয়ে মায়েরা দৌড়াচ্ছেন, কেউ আবার জলের পাত্র হাতে ছোটার চেষ্টা করছেন—কারণ খাবার মানেই সঙ্গে একটু জল, যা এই মরুর দেশে এখন সোনার চেয়েও দামী।

সেই ১১ মিনিটের চারপাশে শুধু হাঁসফাঁস, কান্না, আর্তনাদ। কেউ কেউ ছুটতে গিয়ে জ্ঞান হারাচ্ছেন, কেউ ভিড়ে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। অথচ তবু মানুষ দৌড়াচ্ছেন—কারণ এই খাবারটাই হয়তো তাঁদের একমাত্র বাঁচার ভরসা।

জাতিসংঘের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছনো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। সংঘর্ষ, বাধা, নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়াই এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার মানুষজন, যাঁরা দিনের পর দিন অনাহারে কাটাচ্ছেন, তাঁদের কাছে এই ছোট্ট সময়ের দৌড়ই জীবনের নতুন নাম।

এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ১১ মিনিটের দৌড় কি আর কতদিন চলবে? শিশুদের কান্না, মায়েদের আতঙ্কিত মুখ, পুরুষদের অসহায়তা কি আদৌও পৌঁছচ্ছে সেই সব দেশের কর্ণধারদের কাছে, যাঁরা বিশ্বশান্তির কথা বলেন?

গাজা আজ আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এক মানবিক বিপর্যয়ের চরম নিদর্শন। এই ‘১১ মিনিটের দৌড়’ যেন এক প্রতীক—মানবতার, হাহাকারের এবং এক রুদ্ধ কণ্ঠস্বরের, যা চাইছে একটাই—বাঁচতে। খাবার নয়, এখন সেখানে মানবতা বেঁচে থাকার জন্য লড়ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি, খোলাখুলি রোম্যান্সে মশগুল সোনাক্ষী-জহির

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *