স্বামী বা স্ত্রীর লুকিয়ে রেকর্ড করা কথোপকথন এখন দা!
দাম্পত্য জীবনে বিবাদ হলে অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন। তবে সেই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে যদি কেউ লুকিয়ে ফোনকল রেকর্ড করেন, সেটি কি আইনি দৃষ্টিতে বৈধ? এই প্রশ্নেই সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানিয়ে দিল, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রীর লুকিয়ে রেকর্ড করা কথোপকথনও আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হতে পারে।
এই মামলার সূত্রপাত পঞ্জাব ও হরিয়ানায়। সেখানে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগ প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে নিজের কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং আদালতে পেশ করেন। স্ত্রী এই নিয়ে আপত্তি তুলে হাই কোর্টে মামলা করেন। তাঁর দাবি ছিল, স্বামীর এমন গোপন রেকর্ডিং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট প্রথমে স্ত্রীর পক্ষে রায় দেয়।
তবে সুপ্রিম কোর্ট সোমবার সেই রায় উল্টে দেয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, তথ্যপ্রমাণ আইনের ১২২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে আনা যায় না। তবে আইনি প্রয়োজনে বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা চলাকালীন সেই নিয়মের ব্যতিক্রম করা যায়।
বিচারপতিরা বলেন, “এই ধরনের মামলা গোপনীয়তার অধিকারের মধ্যে পড়ে ঠিকই, তবে যখন স্বামী বা স্ত্রী নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন, তখন সেই গোপন কথোপকথনই কখনও কখনও ন্যায়বিচারের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।” সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার আছে ঠিকই, কিন্তু তা কখনও আইনের প্রয়োজনের উপরে নয়। বিশেষ করে যখন দাম্পত্য নিষ্ঠুরতা বা বিবাহবিচ্ছেদের মতো গুরুতর বিষয় আদালতে বিচারাধীন।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই রায় দাম্পত্য মামলায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। অনেক সময়ই স্বামী-স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন, কিন্তু সঠিক প্রমাণের অভাবে বিচার আটকে যায়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমাতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মত, এই আইনি সুবিধা যাতে অপব্যবহার না হয়, সে দিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষাও সংবিধান স্বীকৃত অধিকার।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি দেশের হাজার হাজার দাম্পত্য মামলা ও পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রেও নতুন পথ দেখাবে।
দই কাটার পরে যে পাতলা জল বেরোয়, ফেলে দেবেন না! জানুন শরীরে এর উপকারিতা ও সতর্কতা