অজগরের হাড় হজমের রহস্য উদঘাটন!
অজগরের হজমশক্তি নিয়ে চিরকালই বিস্মিত বিজ্ঞানী মহল। পাখি থেকে শুরু করে হরিণ বা গরু—সবই অনায়াসে গিলে নেয় এই দৈত্যাকার সাপ। শুধু তাই নয়, শিকারের শক্ত হাড়ও গলে যায় তার হজম প্রক্রিয়ায়। এতদিন এই রহস্য অধরাই ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় অবশেষে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—অজগরের অন্ত্রে রয়েছে এক বিশেষ ধরনের কোষ, যা হাড় হজমে মুখ্য ভূমিকা নেয়।
বার্মিজ পাইথনের দেহে কোষের খোঁজ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বার্মিজ পাইথন (বৈজ্ঞানিক নাম Python molurus bivittatus)-এর অন্ত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অজানা কোষের সন্ধান পেয়েছেন যা প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করতে সক্ষম। ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবতত্ত্ববিদ জেহান-হার্ভ লিগনট জানান, এই কোষগুলি অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর হজম কোষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এদের গঠন অতি সঙ্কীর্ণ, রয়েছে সূক্ষ্ম মাইক্রোভিলি এবং এক ধরনের অভ্যন্তরীণ ভাঁজ, যা ক্রিপ্ট তৈরি করে। এই গঠনই হাড় গলাতে সাহায্য করে।
কীভাবে চলে এই রহস্যময় হজম?
গবেষকরা তিন ধরনের সাপের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন—একটি সম্পূর্ণ খালিপেটে, একটি হাড়সহ ইঁদুর খাওয়া, এবং একটি হাড়বিহীন ইঁদুর খাওয়া সাপ। গবেষণায় দেখা যায়, হাড়সহ খাবার খাওয়া সাপটির দেহে হাড়ের কোনও চিহ্নই অবশিষ্ট থাকেনি। অর্থাৎ, হাড় পুরোপুরি হজম হয়ে গিয়েছে। গবেষণায় আলো এবং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কপির মাধ্যমে কোষগুলির গঠন বিশ্লেষণ করা হয়।
এছাড়া জানা গেছে, এই কোষগুলি না থাকলে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সাপের শরীরে ক্ষতি করত। এই কোষ গুলি সেই ভার সামলে হজম প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য রক্ষা করে।
অস্টিয়োফ্যাজি: হাড় খাওয়ার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি?
হাড় খাওয়ার প্রবণতা বা অস্টিয়োফ্যাজি খুব কম প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়। গরু বা জিরাফের মতো তৃণভোজীরাও মাঝেমধ্যে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে হাড় খায়। তবে সাপের ক্ষেত্রে হাড় হজম করা রীতিমতো প্রয়োজনীয় বিষয়, কারণ তাদের খাদ্য প্রায়শই হাড়সহই গিলে ফেলা হয়। পোষা সাপদের অবশ্য হাড়ছাড়া খাবার দেওয়ার ফলে অনেক সময় ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা যায়।
ভবিষ্যৎ গবেষণার দিগন্ত
এই বিশেষ কোষ কেবল বার্মিজ পাইথনে নয়, অন্যান্য বড় সাপ যেমন বোয়া কনস্ট্রিক্টর, গ্রিন অ্যানাকোন্ডা, রেটিকুলেটেড পাইথন ও কার্পেট পাইথনের মধ্যেও পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তবে তা এখনও গবেষণাপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ হয়নি। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সামনে হজম প্রক্রিয়া ও কোষবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সম্প্রতি বেলজিয়ামের একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে ‘জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি’। এই যুগান্তকারী খোঁজ শুধু অজগরের হজম রহস্যই নয়, ভবিষ্যতে মানব চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণের নতুন পথও খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
‘পুতিনের কাজে খুশি নই’: ট্রাম্পের ক্ষোভ, রাশিয়ার উপর ফের নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত