দলাই লামার জন্মদিনে মোদীর শুভেচ্ছায় ক্ষুব্ধ চিন! সরকারি প্রতিবাদ জানাল বেজিং, ভারতের পদক্ষেপে ‘হস্তক্ষেপ’ দেখছে চিনা প্রশাসন

দলাই লামার জন্মদিনে মোদীর শুভেচ্ছায় ক্ষুব্ধ চিন! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে দলাই লামাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে নতুন করে ভারত-চিন সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে। চতুর্দশ দলাই লামা তেনজ়িং গ্যাৎসোর ৮৯তম…

July 8, 2025
1 min read

দলাই লামার জন্মদিনে মোদীর শুভেচ্ছায় ক্ষুব্ধ চিন!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে দলাই লামাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে নতুন করে ভারত-চিন সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে। চতুর্দশ দলাই লামা তেনজ়িং গ্যাৎসোর ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষে শুধু মোদীর শুভেচ্ছাই নয়, হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজীবরঞ্জন সিংহ। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি চিন।

সোমবার চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং প্রকাশ্যে বলেন, “চতুর্দশ দলাই লামা দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে যুক্ত। তিনি ধর্মের আড়ালে চিন থেকে তিব্বতকে বিচ্ছিন্ন করতে চান।” তাঁর দাবি, তিব্বত সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকা প্রয়োজন এবং চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই উচিত। একইসঙ্গে ভারতের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বেজিং।

চিনের আপত্তির কেন্দ্রে শুধু মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা নয়, বরং ভারতীয় মন্ত্রীদের সরাসরি উপস্থিতি ও পশ্চিমি দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণও। উল্লেখযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানে ছিলেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, সিকিমের মন্ত্রী সোনম লামা এবং হলিউড অভিনেতা ও দলাই লামার দীর্ঘদিনের অনুগামী রিচার্ড গেরে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় দলাই লামাকে “ভালবাসা, করুণা, ধৈর্য এবং নৈতিক শৃঙ্খলার প্রতীক” বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এই বার্তা চিনা নেতৃত্বের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই চিন দাবি করে আসছে, দলাই লামা শুধুই ধর্মীয় নেতা নন, তিনি চিন-বিরোধী রাজনৈতিক প্রতীকও। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি চিন ঘোষণা করেছে, ভবিষ্যতের দলাই লামার উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার অধিকার থাকবে শুধুমাত্র বেজিংয়ের। কিন্তু ২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে দলাই লামা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তাঁর উত্তরসূরি ভারত থেকেই মনোনীত হবেন—চিন বা চিন-অধিকৃত তিব্বত থেকে নয়।

১৯৫৯ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে চিন অধিকৃত তিব্বত থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন চতুর্দশ দলাই লামা। তখন থেকেই হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা তাঁর প্রধান কেন্দ্র। তাঁর সঙ্গে হাজার হাজার তিব্বতি শরণার্থী ভারতে এসে বসবাস শুরু করেন।

চিন বরাবরই ভারতীয় নেতাদের দলাই লামার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মর্যাদা দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ২০১৭ সালে দলাই লামার অরুণাচল সফর নিয়েও প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল বেজিং। এবার মোদীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে আরও এক দফা কূটনৈতিক বিরোধের ইঙ্গিত মিলল।

ভারত এখনও পর্যন্ত চিনের প্রতিক্রিয়ার কোনও উত্তর দেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের লামার প্রসঙ্গ ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার আবহে এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, যা দিল্লি-সহ গোটা আন্তর্জাতিক মহলের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ।

বিকৃত ছবি ও ‘দাদা সংস্কৃতি’ নিয়ে সরব তৃণমূল-কন্যা রাজন্যা হালদার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *