উইম্বলডনের ১৪৮ বছরের নিয়মে বদল!
উইম্বলডন—বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী টেনিস প্রতিযোগিতা। আর তার সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য? এক কথায় বলা যায়, ‘সাদা পোশাক’। ১৮৭৭ সাল থেকে অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে সাদা পোশাকেই কোর্টে নামতে হয়। তবে, সেই ১৪৮ বছরের প্রথা এ বার বদলাতে চলেছে। কারণ, একটি শোকবিহ্বল মুহূর্ত এই নিয়মে আংশিক পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে আয়োজকদের।
সম্প্রতি এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পর্তুগালের জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ও লিভারপুলের তরুণ স্ট্রাইকার দিয়োগো জোতা। মাত্র ২৮ বছর বয়সে চলে যাওয়া এই প্রতিভাবান ফুটবলারকে সম্মান জানাতেই উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা চাইলে কালো আর্মব্যান্ড পরে নামতে পারবেন ম্যাচে—একটি ব্যতিক্রমী অনুমতি, যা সাধারণত উইম্বলডনের কঠোর পোশাকবিধির পরিপন্থী।
স্পেনের জামোরা প্রদেশের সের্নাদিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিলাসবহুল গাড়িতে ছিলেন দিয়োগো এবং তাঁর ভাই আন্দ্রে, যিনি নিজেও এক ফুটবল খেলোয়াড়। দুর্ঘটনার সময় পিছনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে তাদের গাড়ির চাকা ফেটে গিয়ে আগুন ধরে যায়, এবং মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণে দু’জনেই প্রাণ হারান। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে দীর্ঘ দিনের বান্ধবী রুতে কার্দোসোর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দিয়োগো। তাঁদের তিন সন্তানও রয়েছে।
জোতার মৃত্যুর খবর প্রথমে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে পর্তুগালের ফুটবল সংস্থা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে। সংস্থার প্রধান পেদ্রো প্রোয়েনসাও এক বিবৃতিতে বলেন, “দিয়োগো ছিল আমাদের গর্ব, ৫০টিরও বেশি ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। মাঠে ও মাঠের বাইরে সে ছিল অনন্য।” তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন জাতীয় দলের সতীর্থরাও, যার মধ্যে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো তারকাও।
২০২০ সালে উলভারহ্যাম্পটন থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন জোতা। কোচ জুর্গেন ক্লপের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শুধু ক্লাব স্তরেই নয়, দেশের হয়ে উয়েফা নেশনস লিগ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। গত মরসুমে লিভারপুলের লিগ জয়ী দলে ২৬টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন জোতা।
এই ঘটনায় ক্রীড়াজগতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টেনিসের মঞ্চেও তার ছায়া পড়েছে। উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ তাই এই বছর বিশেষভাবে খেলোয়াড়দের কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলার অনুমতি দিয়েছে—একটি সম্মানসূচক প্রয়াস, যা দিয়োগোর স্মৃতিকে কুর্নিশ জানায় এবং ঐতিহ্য রক্ষার মধ্যেই মানবিকতার স্পর্শ রেখে দেয়।