ছ’ঘণ্টা ধরে কাঁচালঙ্কা! ঈশান খট্টরের ‘ধড়ক’ শুটে ঝালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পেছনে কী ছিল বিশেষ কৌশল?

ঈশান খট্টরের ‘ধড়ক’ শুটে ঝালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পেছনে কী ছিল বিশেষ কৌশল? ছবির জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন একজন অভিনেতা? কখনও কঠিন অ্যাকশন দৃশ্য, কখনও মারাত্মক আবহাওয়ায় শুটিং—তবে ঈশান…

July 4, 2025
1 min read

ঈশান খট্টরের ‘ধড়ক’ শুটে ঝালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পেছনে কী ছিল বিশেষ কৌশল?

ছবির জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন একজন অভিনেতা? কখনও কঠিন অ্যাকশন দৃশ্য, কখনও মারাত্মক আবহাওয়ায় শুটিং—তবে ঈশান খট্টরের ক্ষেত্রে সেই পরিশ্রমের নাম কাঁচালঙ্কা! বলিউডে তাঁর প্রথম ছবির শুটিং চলাকালীন ঈশানকে টানা ছ’ঘণ্টা ধরে কাঁচালঙ্কা খেতে হয়েছিল। শুনে অবাক লাগলেও, সেই অভিজ্ঞতা নিজেই ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা।

২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধড়ক’ ছবিতে ছিল একটি খাবার প্রতিযোগিতার দৃশ্য। সেই দৃশ্যের বাস্তবতা বজায় রাখতে ঈশান ক্যামেরার সামনেই আসল কাঁচালঙ্কা খেয়েছিলেন। তবে সমস্যা বাঁধে রি-টেকের সময়। পরিচালক দৃশ্যটি নিখুঁত করতে একাধিকবার শট নিতে বাধ্য হন, ফলে বারবার লঙ্কা খেতে হয় ঈশানকে। ঝালের তীব্রতা তাঁকে কাবু করে দেয়, কিন্তু এক অভিনব কৌশলের সাহায্যে তিনি সেই সমস্যা সামলান।

ঈশান জানিয়েছেন, ‘‘দৃশ্যটা বিশ্বাসযোগ্য করতে আমি সত্যিই কাঁচালঙ্কা খেয়েছিলাম। কিন্তু একটানা এত ঝাল খাওয়া সহজ ছিল না। ইউনিটের তরফে আমাকে বারবার ঘি আর গুড় খেতে দেওয়া হয়।’’ এই দুই উপাদানই লঙ্কার ঝাল কমাতে কার্যকর ভূমিকা নেয় বলে জানান তিনি।

কেন কাজে দেয় ঘি ও গুড়?

এই অভিজ্ঞতার পেছনে রয়েছে পরিপূর্ণ এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। লঙ্কার ঝালের জন্য দায়ী উপাদানটির নাম ক্যাপসাইসিন। এটি আমাদের মুখের সংবেদনশীল স্নায়ুতে ঝাল লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তবে ক্যাপসাইসিন জল নয়, বরং তেলে দ্রবণীয়। তাই পানি পান করলে ঝাল কমে না, বরং আরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় ঘি বা অন্য যে কোনও তেল জাতীয় পদার্থ ক্যাপসাইসিনকে ভেঙে দেয় এবং তার প্রভাবে মুখের ঝাল হ্রাস পায়।

অন্য দিকে, গুড় ও চিনির মতো মিষ্টি উপাদান শরীরে ক্যাপসাইসিনের সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া কমিয়ে দেয়। মিষ্টি স্বাদ মুখের স্নায়ুকে প্রশমিত করে। তাই ঘি ও গুড় একসঙ্গে খেলে লঙ্কার ঝাল অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। পুষ্টিবিদদের মতে, ঝাল খাওয়ার পর এমন সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর।

ঈশান বলেন, “ছ’ঘণ্টা লঙ্কা খাওয়া সহজ ছিল না, কিন্তু পুরো ইউনিট আমাকে সাহায্য করেছে যেন আমি অজ্ঞান না হয়ে যাই!” তাঁর এই কথায় যেমন রয়েছে রসিকতা, তেমনই রয়েছে পরিশ্রমের প্রতি একনিষ্ঠতার নজির।

অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা এবং চরিত্রের বাস্তবতা রক্ষা করার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। কাঁচালঙ্কার সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে ঈশান নিজের চরিত্রে প্রাণ দিয়েছেন, তা শুধু অনবদ্য অভিনয়ের নজির নয়, বরং একজন শিল্পীর দৃঢ় মানসিকতার উদাহরণও বটে।

আপনিও যদি ঝালের সমস্যায় পড়েন, ঈশানের মতোই ঘি ও গুড়ের এই টোটকা কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন।

ভারতের ব্রহ্মস হামলায় আতঙ্কিত পাকিস্তান, ‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি’র কথা স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *