জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তে সুস্মিতা!
কেক, মোমবাতি, শুভেচ্ছায় ভরা এক দিন—জন্মদিন তো এমনই হওয়ার কথা! কিন্তু অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের জীবনে এ বারের জন্মদিন এল এক অপ্রত্যাশিত মনখারাপ নিয়ে। মঙ্গলবার, নিজের জন্মদিনেই জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি—সামাজিক মাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে একসঙ্গে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করলেন অভিনেত্রী।
রুপোলি পর্দার ঝলমলে হাসির আড়ালে ছিল এক চাপা ক্লান্তি। যদিও কিছুদিন আগেও সম্পর্ক নিয়ে এমন কোনও সংকেত মেলেনি। গত নভেম্বরে সুস্মিতার স্বামীর জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসায় ভরা পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। সেই দিনটিতেও তাঁরা একসঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে উদ্যাপনে মেতেছিলেন। তখন কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল, মাত্র কয়েক মাস পরেই তাঁদের সম্পর্কের এমন পরিণতি হবে?
মঙ্গলবার, বিচ্ছেদের খবর জানিয়ে দু’জনে একসঙ্গে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন সামাজিক মাধ্যমে। বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় তাঁরা জানান—এটি কোনও তিক্ততার ফল নয়, বরং পরস্পরের প্রতি সম্মান রেখেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত। অভিনেত্রীর স্বামী অনুরাগীদের কাছে অনুরোধ জানান, এই সিদ্ধান্তের জন্য যেন কাউকে কটাক্ষ না করা হয়, বিশেষ করে সুস্মিতাকে। তাঁর কথায়, “এই পোস্টটাই ওর জন্মদিন উপলক্ষে আমার শেষ বার্তা। ও deserves শান্তি, সম্মান।”
এই খবরে প্রথম সাড়া দেন অভিনেত্রীর বন্ধু ও অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। তিনি জানান, সম্পর্ক নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল অনেক দিন ধরেই। চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সব চেষ্টার পরেও এক ছাদের নিচে আর থাকা সম্ভব হল না। এ প্রসঙ্গে সায়ক বলেন, “আড়াই বছর আগেও তাঁরা বিচ্ছেদের কথা ভেবেছিলেন। আবার একসঙ্গে থাকার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু এবার হয়তো সত্যিই আলাদা হওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।”
ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ সুস্মিতা এখন নিয়মিত দেখা যায় স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘জগদ্ধাত্রী’তে। সুন্দরবনের মেয়ে সুস্মিতার টেলিভিশনের জগতে উঠে আসা সহজ ছিল না। নিজের কাঁধেই সংসার, পেশা, স্বপ্নের ভার নিয়েছেন তিনি। অতীতে যেমন লড়েছেন, আজও তিনি ঠিক সেই ছন্দেই নিজের পথ খুঁজে নেবেন—এমনটাই বিশ্বাস তাঁর অনুরাগীদের।
জন্মদিনে ভালোবাসা নয়, এল বিচ্ছেদের খবর। তবে সুস্মিতার হাসি, তাঁর আত্মবিশ্বাস, তাঁর লড়াইয়ের ইতিহাস বলে—এটাও হয়তো নতুন এক যাত্রার শুরু।
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?