‘পঞ্চায়েত ৪’-এ ঠোঁটের ছোঁয়া
তিনটি মরসুম ধরে ফুলেরা গ্রামের সরল জীবনযাপন আর সূক্ষ্ম রসায়নের জাল বুনে দর্শকের মন জয় করে এসেছে ‘পঞ্চায়েত’। সেই গল্পে অভিষেক ও রিঙ্কির সম্পর্ক ক্রমশ এগিয়েছে, ধীরে ধীরে গাঢ় হয়েছে। আর এবার, ‘পঞ্চায়েত ৪’-এ এসে সেই সম্পর্ক পৌঁছেছে এক নতুন মোড়ে—ঠোঁটে ঠোঁট। তবে এই চুম্বনের পেছনের কাহিনি কিন্তু পর্দার মতো সাবলীল ছিল না। অভিনেত্রী সানভিকা চরিত্রের মতো সাহসী হলেও, দৃশ্যটি নিয়ে শুরুতে বেশ অস্বস্তিতেই ছিলেন।
প্রথম সিজ়নের শেষ পর্বেই দেখা গিয়েছিল রিঙ্কিকে, গ্রাম প্রধানের মেয়ে, এক ঝলক—কোনও সংলাপ ছাড়াই। সেখান থেকেই শুরু প্রেমের আলতো ইঙ্গিত। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মরসুমে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে। ছোট ছোট মুহূর্তে একে অপরকে বুঝতে শেখে অভিষেক (জীতেন্দ্র কুমার) ও রিঙ্কি (সানভিকা)। তবে যে গাঢ়তা এই সিজ়নে এসেছে, তার জন্য অনেকটা প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল।
‘পঞ্চায়েত ৪’-এর নির্মাতারা চাইছিলেন, দর্শকরা দেখতে পান এক পরিণত প্রেমের চিহ্ন। আর তারই প্রতীক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ঠোঁটে ঠোঁট রাখার দৃশ্য। তবে সানভিকা প্রথমেই দৃশ্যটি নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি যখন শুনলাম চুম্বনের দৃশ্য থাকবে, তখন একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। পঞ্চায়েত এমন একটা সিরিজ যেখানে পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে দেখে। তাই সেটা যেন রুচিহীন না হয়, তা নিশ্চিত করাটা জরুরি ছিল।”
পরিচালকরা অবশ্য আশ্বাস দেন, খুব সংবেদনশীল ও মার্জিত ভঙ্গিতে দৃশ্যটি শুট করা হবে। দু’দিন সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন সানভিকা। তবুও সেই সময় মনে হয়েছিল, “একটু অস্বস্তি হচ্ছিল।” তাঁর মতে, চুমু দৃশ্যটির মাধ্যমে সম্পর্কের গভীরতা ফুটে উঠেছে ঠিকই, তবে অভিনেত্রী হিসেবে সেটি করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
সহ-অভিনেতা জীতেন্দ্র কুমার অবশ্য দৃশ্যটি শুটিংয়ের সময় পুরো পরিস্থিতি সহজ করে দিয়েছিলেন বলে জানান সানভিকা। তিনি বলেন, “জীতু খুব সহযোগিতা করেছিল। আমার স্বস্তি যেন থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে ও নিজেও খুব সংযত ছিল।”
এই ঘটনাই আরও এক বার মনে করিয়ে দেয়—পর্দার প্রেম যতই নিখুঁত দেখাক না কেন, বাস্তবের প্রস্তুতি, ভাবনা এবং মানসিক জটিলতা থাকে তার পেছনে। রিঙ্কি ও অভিষেকের সম্পর্ক ‘পঞ্চায়েত’-এর দর্শকদের কাছে আজ শুধু কল্পনার প্রেম নয়, বরং বাস্তবের মতো জীবন্ত এক অনুভব। তাই সেই চুম্বন দৃশ্য শুধু সাহস নয়, বরং এক পরিণত প্রেমের প্রতীক হিসেবেই ধরা দিল এই সিজ়নে।
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?