প্রয়াত অলিম্পিয়ান লক্ষ্মীকান্ত দাস!
ভারোত্তোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম লক্ষ্মীকান্ত দাস আর নেই। ৮৭ বছর বয়সে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নিজের বাসভবনে, দক্ষিণ কলকাতার কাসুন্দিয়া বৈষ্ণবপাড়া লেনে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বহু দিন ধরে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ক্রীড়ামহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছেলেবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত। ছাত্রজীবনেই পেশি শক্তির খেলা ভারোত্তোলনের প্রতি আকৃষ্ট হন। অদম্য পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠা তাঁকে ক্রমশ রাজ্যের প্রথম সারির প্রতিযোগী করে তোলে। রাজ্যস্তর পেরিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়েও নিজের জায়গা করে নেন, হয়ে ওঠেন ভারতের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক।
তিনি মোট ১১ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন। এই ধারাবাহিক কৃতিত্ব তাঁকে আন্তর্জাতিক আসরে পৌঁছে দেয়। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিক এবং ১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি ৬০ কেজি বিভাগে। রোমে তিনি ৩১৬ কেজি ওজন তুলে ১২তম এবং টোকিওতে ৩৩২.৫ কেজি তুলে ১৩তম স্থান অর্জন করেন। সে সময় বিশ্ব মঞ্চে ভারতীয় ভারোত্তোলকের এই সাফল্য ছিল গর্বের বিষয়।
লক্ষ্মীকান্ত দাস শুধুই প্রতিযোগী ছিলেন না, ছিলেন গড়ার কারিগরও। খেলার জগৎ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি রাজ্য কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর প্রশিক্ষণে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছেন, জাতীয় স্তরে সফল হয়েছেন। খেলার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের ফলেই তিনি পেয়েছিলেন দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সম্মান— অর্জুন পুরস্কার, ১৯৬২ সালে।
তাঁর প্রাপ্তি শুধু পদক নয়, তাঁর অবদান ভারতীয় ভারোত্তোলনের ভিত মজবুত করায়। সাফল্যের আড়ালে থাকা শ্রম, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। লক্ষ্মীকান্ত দাসের জীবনচিত্র প্রমাণ করে, সাফল্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রতিদিনের অনুশীলনের ফল।
তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া মহলের বহু প্রবীণ ও নবীন ক্রীড়াবিদ। রাজ্য ক্রীড়া সংস্থার তরফেও জানানো হয়েছে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা। একজন সত্যিকারের ক্রীড়াবিদ এবং আদর্শ কোচ হিসেবে লক্ষ্মীকান্ত দাস স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আগামী প্রজন্মের কাছে।
৩৫ হাজার ফুটে ও আরামেই ভেসে থাকুন! দীর্ঘ উড়ানে আরাম পাওয়ার ৭টি সহজ টিপস