ইউরেনিয়াম কতটা বিশুদ্ধ হলে তৈরি হয় পরমাণু বোমা?
ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণুকেন্দ্রে আমেরিকার আক্রমণের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে রুখে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। কিন্তু ইরান কতটা এগিয়েছে? তারা কি আদৌ পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে?
কেন এত চিন্তা ইউরেনিয়াম নিয়ে?
পরমাণু অস্ত্র তৈরির অন্যতম উপাদান ইউরেনিয়াম— বিশেষত ইউরেনিয়াম-২৩৫ নামক আইসোটোপটি। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে এই উপাদান থাকে মাত্র ০.৭ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তা ৩–৫ শতাংশ বিশুদ্ধ করলেই চলে। কিন্তু পরমাণু বোমা তৈরি করতে হলে প্রয়োজন পড়ে অন্তত ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম। এই মাত্রায় পৌঁছাতে পারলেই কোনও দেশ হয়ে ওঠে পরমাণু শক্তিধর।
ইরান কতদূর এগিয়েছে?
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ইরান ইতিমধ্যেই ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও তারা দাবি করে, এই গবেষণা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, কিন্তু পশ্চিমি বিশ্ব— বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল— মনে করছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
২০১৫ সালে আমেরিকা-সহ ছ’টি দেশ ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি করে, যেখানে ইরানকে ইউরেনিয়াম ৩.৬৭ শতাংশের বেশি বিশুদ্ধ না করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। সেই চুক্তি ট্রাম্প ২০১৮-তে বাতিল করে দেন এবং ইরানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তারপর থেকেই ইরান ধীরে ধীরে চুক্তি লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ বাড়িয়েছে। মে ২০২৫-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ঘাঁটিগুলিতে মজুত ইউরেনিয়ামের পরিমাণ প্রায় ৯.২ টন— যা চুক্তির নির্ধারিত সীমার অনেক উপরে।
ইরানের প্রধান পরমাণুকেন্দ্র
- ফোরডো: মাটির ৩০০ ফুট নিচে, যেখানে প্রতি মাসে ১৬৬ কেজি ৬০% বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি হয়। এটি রাশিয়ার S-300 সিস্টেম দ্বারা সুরক্ষিত, এবং আমেরিকা এখানেই বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে।
- নাতান্জ়: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মাটির উপরের অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইজ়রায়েলের আক্রমণে।
- ইসফাহান: চিনের সহায়তায় তৈরি, এখানে ৩,০০০-এরও বেশি বিজ্ঞানী কাজ করেন এবং রয়েছে বহু গবেষণা চুল্লি।
কেন এত উদ্বিগ্ন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের মতে, যদি ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলে, তা হলে তা শুধু ইজ়রায়েল নয়, সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি হয়ে উঠবে। তেহরান বারবার পরমাণু অস্ত্র বানানোর ইচ্ছা অস্বীকার করলেও, পশ্চিমি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ— ইরান গোপনে সেই পথে এগোচ্ছে।
এখন কী অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিষয়টি?
আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এটি নিশ্চিত যে, পশ্চিমি দুনিয়া ইরানকে যে কোনও মূল্যে পরমাণু অস্ত্রাধিকার থেকে বিরত রাখতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক চাপ। আগামী দিনে আলোচনায় ফিরবে তেহরান, না কি যুদ্ধের উত্তাপ বাড়বে, সেটাই এখন বিশ্বের নজরকাড়া প্রশ্ন।
“আলোচনা না পেরে যুদ্ধ!” — আমেরিকার ইরান আক্রমণে ফের ভাইরাল ট্রাম্পের পুরনো ওবামা-আক্রমণ