পুরী ছাড়াও জগন্নাথ দর্শন! ওড়িশার গোপন মন্দিরভ্রমণে কোথায় যাবেন এবার?

পুরী ছাড়াও জগন্নাথ দর্শন! জগন্নাথদেব মানেই যেন পুরীর রথযাত্রা, ভক্তের ঢল, শঙ্খ ও ঘন্টার ধ্বনি। কিন্তু ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির, যেগুলোর মাহাত্ম্য, স্থাপত্য আর আধ্যাত্মিক…

June 22, 2025
1 min read

পুরী ছাড়াও জগন্নাথ দর্শন!

জগন্নাথদেব মানেই যেন পুরীর রথযাত্রা, ভক্তের ঢল, শঙ্খ ও ঘন্টার ধ্বনি। কিন্তু ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির, যেগুলোর মাহাত্ম্য, স্থাপত্য আর আধ্যাত্মিক পরিবেশ একেবারেই অনন্য। পুরী ছাড়াও রথযাত্রা উপলক্ষে এইসব মন্দিরেও হয় জমজমাট উৎসব। সময় ও সুযোগ করে ঘুরে আসতে পারেন সেগুলিও। আসুন জেনে নেওয়া যাক পুরী ছাড়া কোথায় কোথায় জগন্নাথ দর্শনের পথ খুলে রেখেছে ওড়িশা।


১. খাল্লিকোটের জগন্নাথ মন্দির (গঞ্‌জাম)

সবুজ পাহাড় ও নারকেল গাছে ঘেরা পরিবেশে দাঁড়িয়ে খাল্লিকোটের জগন্নাথ মন্দির। ১৬৭০ সালে রাজা অনিরুদ্ধ ছোটরায়ের আমলে প্রথম কাঠের মূর্তিতে পূজা শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় জগন্নাথ মর্দরাজ পাথরের এই মন্দির নির্মাণ করেন। গাঢ় লাল রঙের মণ্ডপ আর সূক্ষ্ম পাথরের কারুকাজ এই মন্দিরকে অনন্য করে তোলে। উৎসবের বাইরে ভিড় কম থাকলেও, শান্ত পরিবেশে পূজার অভিজ্ঞতা অনন্য।


২. নীলগিরির জগন্নাথ মন্দির (বালেশ্বর)

নীলগিরি পাহাড়ের চূড়ায় সাদা রঙের এই জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা হরিচন্দন। এখানে পূজিত হন জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা, পাশাপাশি গণেশ ও শিব। প্রতিবছর রথযাত্রার সময় এখানে ভক্তদের ঢল নামে। নীলগিরি রাজবাড়ি ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য পরিবেশটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।


৩. ইমামি জগন্নাথ মন্দির (বালগোপালপুর)

পুরীর আদলে তৈরি ৭৮ ফুট উঁচু এই মন্দিরটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক হলেও তার স্থাপত্যশৈলী অসাধারণ। পুরো মন্দিরচত্বর ৩ একরের বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ঘড়ির কাঁটার মতো গাঁথা ছোট-বড় মন্দির, কারুকাজময় দেওয়াল দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।


৪. খুরদার লবণগিরি জগন্নাথ মন্দির

ভুবনেশ্বর থেকে মাত্র ১৭ কিমি দূরে লবণগিরি পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত এই মন্দিরে পূজিত হন জগন্নাথ ও লবণেশ্বর (শিব)। সাদা রঙের ছোট্ট এই মন্দির স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। রথযাত্রার সময় এখানে হয় বিশেষ উৎসব।


৫. বারিপদার জগন্নাথ মন্দির (ময়ূরভঞ্জ)

এই সুবিশাল মন্দিরটি নির্মাণ করেন রাজা বৈদ্যনাথ ভঞ্জ, ১৫৭৫ সালে। প্রবেশদ্বার থেকে মন্দিরের আকার আন্দাজ করা কঠিন হলেও ভিতরে রয়েছে জগমোহন, নাটমন্দির ও মূল গর্ভগৃহ। ল্যাটেরাইট পাথরে তৈরি কারুকাজ নজর কাড়ে। পুরীর ধাঁচে তৈরি এই মন্দিরে রথযাত্রাও হয় বড় করে।


শেষ কথা

পুরীর জগন্নাথ মন্দির মানেই আবেগ, ভক্তি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। তবে শুধু পুরী নয়, ওড়িশার বিস্তৃত ভূখণ্ডে ছড়িয়ে থাকা এই মন্দিরগুলিও একইরকম ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণে গুরুত্বপূর্ণ। এবারের রথযাত্রায়, একটু ভিন্ন পথে হেঁটে আবিষ্কার করুন ওড়িশার গোপন জগন্নাথ দর্শন!

আরও জানতে চান? দেখে নিন পুরীর বাইরে রথযাত্রা উৎসব অথবা ওড়িশার মন্দির স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য।

🚨 “ধৈর্যের সীমা ছাড়াচ্ছে!”: কর্মীদের হুঁশিয়ারি Nothing-র CEO কার্ল পে-র

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *