১০৬ সন্তানের জনক, ১২০ হাজার কোটি টাকার মালিকানা!
বিয়ে না করেই শতাধিক সন্তানের জনক! বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ও টেলিগ্রাম অ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ নিজের বিপুল সম্পত্তি তাঁর সন্তানদের মধ্যে বিলি করতে চলেছেন। তবে শর্তসাপেক্ষে। একমাত্র সেই শর্ত পূরণ করলেই ভাগ পাবেন তাঁর সন্তানেরা, নইলে কিছুও নয়।
শতাধিক সন্তানের পিতা, তবুও অবিবাহিত
রাশিয়ার লেনিনগ্রাডে জন্ম পাভেল দুরভের জীবনে সম্পর্ক ছিল একাধিক। তাঁর জীবনে দারিয়া বনদারেনকোর মতো নারীর উপস্থিতি থেকেছে, যাঁর সঙ্গে তাঁর সন্তানেরাও রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য—১০৬ সন্তান রয়েছে তাঁর, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই জন্মেছে শুক্রাণু দানের মাধ্যমে।
কী সেই শর্ত?
‘ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স’ অনুসারে, দুরভের সম্পদের পরিমাণ ১৩৯০ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা)। পাভেল জানিয়েছেন, এই বিপুল সম্পদ সন্তানেরা পাবে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে নয়। তিনি চান, সন্তানেরা নিজের যোগ্যতায় সফল হোক। “শুধু ব্যাঙ্ক ব্যালান্স দেখে ভেসে থাকুক, তা চাই না,” জানিয়েছেন দুরভ।
কীভাবে হল এত সন্তান?
এই প্রশ্নের জবাব আরও অবাক করা। এক বন্ধুদম্পতির অনুরোধে প্রথম শুক্রাণু দান করেছিলেন পাভেল। পরে বিভিন্ন IVF ক্লিনিকের অনুরোধে বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশে তাঁর শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণ করেন বহু নারী। যাঁরা গর্ভধারণ করেন, তাঁদের বয়স ৩৭-এর কম হওয়া এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় পাশ করা বাধ্যতামূলক ছিল।
বিতর্ক, গ্রেফতারি, এবং নিষেধাজ্ঞা
২০১৩ সালে ভাই নিকোলাইয়ের সঙ্গে টেলিগ্রাম অ্যাপ তৈরি করেন পাভেল। এই অ্যাপ জনপ্রিয় হলেও রাশিয়ার সরকার তথ্য দিতে চাপ সৃষ্টি করায় তিনি দেশ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। বার্লিন, লন্ডন ঘুরে শেষে দুবাইকে টেলিগ্রামের সদর দফতর করেন। তবে এখানেই শেষ নয়।
২০২৪ সালে ফ্রান্সে নামতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ—টেলিগ্রামের মাধ্যমে মাদক পাচার, শিশু পর্নোগ্রাফি-সহ নানা অপরাধ চলছে। বান্ধবী জুলি ভ্যাভিলোভার সামনেই গ্রেফতার হন তিনি। পরে ৫০ লক্ষ ইউরো জামিনে মুক্তি পান, তবে নিষেধাজ্ঞা ছিল দেশ ছাড়ার।
এখন কোথায় পাভেল?
২০২৫ সালের মার্চে প্রথমবার ফ্রান্সের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পান তিনি। বর্তমানে রয়েছেন দুবাইয়ে। জীবন যেন উপন্যাস! শতাধিক সন্তান, আইনি জট, কোটি কোটি সম্পত্তি—সব মিলিয়ে পাভেল দুরভের জীবনের প্রতিটি পাতায় রহস্য, বিতর্ক ও বিস্ময়ের ছাপ।
আরও জানার জন্য ঘুরে দেখুন পাভেলের সম্পর্কের ইতিহাস, টেলিগ্রাম বিতর্ক, অথবা বিশ্বের বিতর্কিত ধনকুবেররা।
🚨 “ধৈর্যের সীমা ছাড়াচ্ছে!”: কর্মীদের হুঁশিয়ারি Nothing-র CEO কার্ল পে-র