অভিনেত্রী পূজা ও কুণালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রযোজকের!
চার দিন আগেই সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিয়ো পোস্ট করেন টেলিভিশন অভিনেত্রী পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী কুণাল বর্মা। সেখানে তাঁরা জানান, এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাঁর কারণে তাঁরা প্রায় নিঃস্ব। কিন্তু অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করেননি কেউই।
আর সেই ঘটনার ঠিক চার দিন পর শনিবার রাতে চলচ্চিত্র প্রযোজক শ্যামসুন্দর দে ও তাঁর স্ত্রী মালবিকা দে’র তরফে এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে—অভিযোগ, পূজা ও কুণাল মিলে গোয়ায় শ্যামসুন্দরকে অপহরণ করে চার দিন আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন।
কী বলছেন প্রযোজক?
‘ব্যোমকেশ ও দুর্গরহস্য’-এর প্রযোজক শ্যামসুন্দর দে আনন্দবাজার অনলাইনের কাছে দাবি করেন, পূজা-কুণালের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল ঠিকই, তবে আর্থিক কোনও বকেয়া ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি থাকতও, তা হলে কি অপহরণ করে টাকা আদায় করা যায়?” তাঁর দাবি, তাঁকে জোর করে একটি অজানা বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল, শারীরিক হেনস্থাও করা হয়েছিল।
স্ত্রী মালবিকার কথায়, “৬৪ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২৩ লক্ষ টাকা দিতে হয়। যা দেওয়া হয় পূজার কলকাতার আপ্তসহায়ক এবং কুণালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।”
কীভাবে ঘটল অপহরণ?
৩১ মে গোয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে পাঠিয়ে একা থেকে যান শ্যামসুন্দর। সেই সময় ভাড়া গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছিলেন তিনি। মাঝপথে পথ আটকান পূজা ও কুণাল। সঙ্গে ছিল গুন্ডাবাহিনী। জোর করে গাড়িতে তুলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আটক করে রাখা হয় একটি বাড়িতে।
আরও গুরুতর অভিযোগ
প্রযোজক দাবি করেন, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোর করে পাসওয়ার্ড এবং ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নেন অভিযুক্তরা। এমনকি তাঁকে দিয়ে জোর করে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করানো হয় যেখানে তাঁকে বলতে হয়, তিনি সব কিছু নিজের ইচ্ছায় করছেন।
গোয়া থানায় এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন শ্যামসুন্দর। সেই অভিযোগপত্রের কপি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তাঁর স্ত্রী মালবিকা দে।
পূজা ও কুণাল কী বলছেন?
এই সমস্ত অভিযোগকে “হাস্যকর” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের বক্তব্য, “যথাসময়ে সব কিছু প্রকাশ্যে আসবে।” এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি নন।
তাহলে পূজার ভিডিয়োয় বলা ‘বিশ্বাসঘাতক বন্ধু’ কি শ্যামসুন্দর?
এই প্রশ্নে শ্যামসুন্দরের জবাব, “এমন আঘাত কাছের মানুষই দিতে পারে, সেটা বিশ্বাস করতে সময় লেগেছে। তাছাড়া, বিষয়টা এতটাই ঘরের ছিল যে, মুখ খুলতে লজ্জা করছিল।”
এই ঘটনায় গোটা বিনোদন জগতে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, আইনি পথে কোন দিকে এগোয় এই বিতর্ক।
ভারতে আসছে স্যামসাং Galaxy S25 সিরিজের One UI 8 বিটা ভার্সন! কী কী থাকছে এই আপডেটে?