অর্ণ মুখোপাধ্যায়ের ব্যর্থতা থেকে তৈরি জীবনের গল্প!
“হ্যাঁ, আমি ব্যর্থ ক্রিকেটার। প্রেমিক হিসেবেও ব্যর্থ কি না, সেটা বললেই তো সব মজাই নষ্ট হয়ে যাবে!”— এমনই এক খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিয়ে নিজের দ্বিতীয় সিনেমা নিয়ে হাজির হয়েছেন অভিনেতা-পরিচালক অর্ণ মুখোপাধ্যায়। ‘পুবের জানালা’ নামের এই ছবিতে ধরা পড়তে চলেছে তাঁর নিজের জীবনের ছায়া, যেখানে ব্যর্থতার আবরণ সরিয়ে উঠে আসে সাহস, ফিরে আসার লড়াই এবং এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি।
অর্ণ মুখোপাধ্যায় মঞ্চে এবং পর্দায় যাঁর অভিনয় দক্ষতা সমাদৃত, এবার তিনি ফিরে আসছেন পরিচালক হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় ছবিতে, যেখানে নাটকের অবলম্বন নয়, বরং উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। তাঁর ক্রিকেট জীবনের ব্যর্থতা ও প্রেমে অপ্রাপ্তির অনুভবই হয়ে উঠেছে এই সিনেমার রূপরেখা। ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনসের ব্যানারে তৈরি এই ছবির শ্যুটিং হয়েছে উত্তরবঙ্গের এক শান্ত ‘ভার্জিন লোকেশন’-এ, যেখানে প্রকৃতির রোদ-বৃষ্টি পর্যন্ত যেন সহযোগী হয়ে উঠেছে ছবির আবহে।
ছবির মূল চরিত্র— আবেল ও আনন্দী। আবেল এক প্রতিভাবান ক্রিকেটার, যার কাছে সুযোগ ছিল অনেক, কিন্তু সঠিক দিশা না পেয়ে বিদায় নিয়েছে খেলার দুনিয়া থেকে এবং এখন একজন শিক্ষক। অপর দিকে, আনন্দী এক সময়ের তুখোড় ছাত্রী, যার অস্ত্র হওয়ার কথা ছিল কলম। কিন্তু সেই লেখিকা আজ নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে নিজের চারপাশে তৈরি করেছে এক অদৃশ্য প্রাচীর। তারা কেউ জানে না কে কোথায় আছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এক কাকতালীয়ভাবে তারা আবার মিলিত হয় উত্তরবঙ্গে।
এই পুনর্মিলন কি নতুন করে প্রেমের আলো ছড়াবে? আবেল কি খুঁজে পাবে নিজের সেই না বলা গল্পের পরিণতি? আনন্দী কি পারবে নিজের দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে আলোর রেখা প্রবেশ করতে দিতে? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে বড় পর্দার জন্য, জানিয়ে দেন পরিচালক নিজেই।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে গৌরব চক্রবর্তী ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। তাঁদের অভিনয়ে রয়েছে এক গভীরতা, যা প্রেম ও ব্যর্থতার দ্বন্দ্বকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলে। চিত্রনাট্য লিখেছেন সুমিত দেব, কাহিনি অর্ণের নিজস্ব সৃষ্টি। আর অভিনয়ের লোভ সামলাতে না পেরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকেও।
তাঁর প্রথম ছবিতে ছিল তারকার হাট, আর এই ছবিতে নেই বাহুল্য—আছে বাস্তবতা, মনস্তত্ত্বের গভীরতা। অর্ণ হাসতে হাসতেই বলেন, “প্রেমে বিশ্বাস আছে, তাই বলে একাধিক প্রেম করেছি—এমন ভাববেন না।” কিন্তু দর্শকের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়, গৌরব কি তবে অর্ণেরই পর্দার প্রতিবিম্ব? আনন্দীর অতীত কি তবে অর্ণেরই অনুকল্প?
ছবির শ্যুটিং চলাকালীন প্রকৃতিও যেন সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে এই গল্পের সঙ্গে। কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি মিশে গিয়ে তৈরি করেছে অনন্য এক আবহ, যা ছবির আবেগে এনে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
অর্ণ বলেই দিলেন, “জীবন থেকেই তো ছবি উঠে আসে।” ‘পুবের জানালা’ তাই শুধু এক ব্যর্থ ক্রিকেটারের গল্প নয়, এটা একটা ফিরে আসার কাব্য, এক অপূর্ণ প্রেমের পূর্ণতা খোঁজার প্রয়াস।
টাটকা লাউ কিনবেন কীভাবে? চেনুন কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো সব্জি