গ্রাম গড়বে দেশ, সম্মানে উজ্জ্বল ‘আল্ট্রাটেক যশস্বী প্রধান’!
গ্রামের অগ্রগতি ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই বিশ্বাসেই প্রতিটি পঞ্চায়েত প্রধান আজ তাঁদের দায়িত্বে শান দিচ্ছেন, গ্রামের ভিত মজবুত করছেন নিরলস পরিশ্রমে। এই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিতে এবং গ্রামের চালিকাশক্তি হিসেবে যাঁরা নিরবিচারে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের সম্মানিত করতেই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল ‘আল্ট্রাটেক যশস্বী প্রধান’ সম্মাননা অনুষ্ঠান। আল্ট্রাটেক সিমেন্ট-এর এই বিশেষ উদ্যোগে মুর্শিদাবাদ জ়োন থেকে নির্বাচিত হলেন ২০ জন কৃতী পঞ্চায়েত প্রধান—যাঁরা নিজেদের এলাকার পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে রেখেছেন চোখে পড়ার মতো অবদান।
বহরমপুরের ‘গোল্ডেন রিট্রিট’ হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান এক উদ্দীপনাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব তাপস মুখোপাধ্যায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম গড়ার মধ্য দিয়েই দেশের ভিত শক্ত হয়। আমাদের পঞ্চায়েত নেতারা তাঁদের কাজে সেই কথারই প্রমাণ দিচ্ছেন।” তাঁর মতে, আজকের দিনে বিশ্বজুড়েই আত্মনির্ভর গ্রামের কথা ভাবা হচ্ছে, আর আমাদের দেশের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাই সেই দিশা দেখাচ্ছে।
উদ্যোক্তা আল্ট্রাটেক-এর পক্ষে অবিনাশ মিশ্র জানান, “যেকোনও স্থানের উন্নয়ন মানেই সেখানকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। তাই গ্রামে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে হবে। আল্ট্রাটেক সব সময় গ্রামোন্নয়নে পাশে থাকবে।” উত্তরবঙ্গের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দেবেশ তিওয়ারিও তাঁর বক্তব্যে প্রশংসা করেন এই প্রয়াসের।
বিচারকদের তালিকাতেও ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা—যেমন দিব্যেন্দু সরকার, উদ্দীপ্ত ঘোষ, প্রদীপ হালদার, অরূপ গোস্বামী প্রমুখ। তাঁরা প্রায় ৪০০ আবেদনপত্রের মধ্যে থেকে বিভিন্ন পঞ্চায়েত প্রধানদের কাজের ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে বেছে নেন ২০ জনকে। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উত্তরীয় ও সম্মাননাপত্র, যা তাঁদের কাজের গর্বিত স্বীকৃতি। নদীয়া জেলার পায়রাডাঙ্গার প্রধান ফাল্গুনি বিশ্বাস সম্মান পাওয়ার পর বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার একার নয়, আমার গোটা গ্রামের, এবং ধন্যবাদ আল্ট্রাটেককে, যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
এই সম্মান শুধু একটি পদক বা অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়—এটি গ্রামের প্রতি দায়বদ্ধ নেতৃত্বের এক আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠস্বর। প্রতিটি বিজয়ী প্রধান যখন মঞ্চে উঠে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, তখন তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভবিষ্যতের উন্নয়ন স্বপ্ন। এই সম্মাননার মধ্য দিয়ে নতুন উদ্যমে তাঁদের নেতৃত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হবে বলেই প্রত্যাশা।
এই উদ্যোগ যে কতটা প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী, তা প্রমাণ করল অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রতিক্রিয়া। ‘আল্ট্রাটেক যশস্বী প্রধান’ সম্মান হয়ে উঠেছে এক প্রতীক—গ্রামের পরিবর্তনই দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথ।
পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে