সুগার ড্যাডিদের মধ্যে জনপ্রিয়!
বিনোদন জগতের আলো-আঁধারির মধ্যে নারীবিদ্বেষের ছায়া আজও কমেনি—এমনই বাস্তবতায় মুখ খুললেন মিস ওয়ার্ল্ড মানুষী চিল্লার। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাকে ‘সুগার ড্যাডিদের মধ্যে জনপ্রিয়’ বলে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এরপরই ফুঁসে ওঠেন মানুষী, নারীবিদ্বেষ ও পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি স্পষ্ট ও সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মানুষী বললেন, “মহিলারা সফল হলে তাতে তাঁরা নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পৌঁছেছেন—তার পিছনে পুরুষের কোনও অবদান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাই হলো নারীবিদ্বেষী মনোভাব।” বিনোদন জগতের মহিলাদের ওপর চরম অবজ্ঞা ও অসম্মানের চিত্র তুলে ধরে মানুষী জানান, সমাজ ও মিডিয়া সবসময়ই তাদের সাফল্যের পিছনে নানাভাবে প্রশ্ন তোলে, যা সফল মহিলাদের পথ কঠিন করে তোলে।
নারীবিদ্বেষের সামনে সাহসী অবস্থান
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মানুষী লিখেছেন, “নারীবিদ্বেষীরা সফল মহিলাদের মেধার বদলে পুরুষের সাহায্যের কথা বারবার বলেন। এ ধরনের মন্তব্যগুলো আমার কাছে অপ্রভাবিত, তাই আমি এগুলো এড়িয়ে চলি। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমাদের সমাজে কর্মরত মহিলাদের প্রতি সবসময়ই অসন্মান প্রদর্শিত হয়, বিশেষ করে বিনোদন জগতের মহিলাদের ক্ষেত্রে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এমন পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান সুযোগ ও অবদানকে মূল্য দেওয়া হয়। একজন চিকিৎসক সফল হলে লিঙ্গ দেখে বিচার করা হয় না, শুধু দক্ষতা ও পরিশ্রম দেখে তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু যখন পুরুষরা সফল হন, তখন তাদের ‘পরিশ্রমী’ বলা হয়, আর যখন মহিলা সফল হন, তখন ‘অবসরপ্রাপ্ত সুযোগসন্ধানী’ কিংবা ‘অর্থলোভী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়—এই বৈষম্য অবৈধ এবং অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”
কেন এত সরব হলো মানুষী?
মানুষীর প্রতিবাদের পেছনে বিশেষ কারণ রয়েছে। সম্প্রতি একটি অবমাননাকর পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় যেখানে দাবি করা হয়, মানুষী ‘সুগার ড্যাডি’ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই অবমাননাকর বক্তব্য তার প্রতি নারীবিদ্বেষেরই এক রূপ এবং এই ধরনের স্টিরিওটাইপিক্যাল ধারনাকে মানুষী সহ্য করতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে মানুষী স্পষ্ট করে বলেন, “এই ধরনের মিথ্যা ও অপমানজনক দাবি মহিলাদের প্রতি নারীবিদ্বেষকে আরও জোরালো করে। সফল মহিলাদের এগিয়ে আসা কঠিন করে দেয়, কারণ তাঁদের প্রতিভাকে অবমূল্যায়ন করা হয়।”
মানুষীর বক্তব্য থেকে আমরা কী শিখি?
মানুষী চিল্লারের এই বক্তব্য আমাদের সচেতন করে তোলে যে, সমাজে নারীবিদ্বেষ এখনও গভীরভাবে রুদ্ধদ্বার রয়েছে। মহিলাদের সফলতা স্রেফ তাদের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল, কিন্তু অনেক সময় তা মানতে নারাজ কিছু পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব।
সাফল্যের পিছনে পুরুষের অবদান খুঁজে বের করার বদলে আমাদের উচিত মহিলাদের মেধা ও যোগ্যতাকেই সম্মান দেওয়া। মানুষীর মতো সাহসী নারীরা যখন এই প্রথাগত চিন্তাধারার বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তখন সমাজ ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হয়।
এখানে থেমে না থেকে, আমাদের সকলের উচিত সমতার পক্ষে সচেতন থাকা এবং নারীদের অবমূল্যায়ন করার প্রবণতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো। কারণ, সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি হলো নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত অবদান ও সম্মান।
‘লুক’ ফিরল, জয়ের ইঙ্গিত? হার্দিক পাণ্ড্যের রূপ বদল ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে