“ছেলে আমার চার, আর পর্দায় পঁচিশ!” — মায়ের চরিত্রে জোর করেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে স্নেহাকে?

মায়ের চরিত্রে জোর করেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে স্নেহাকে? স্নেহা চট্টোপাধ্যায়। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ। অভিনয় দক্ষতায় প্রশংসিত, অথচ আজ তিনি কাজের খোঁজে অপেক্ষায়। কারণ? বারবার একই রকম চরিত্রের প্রস্তাব—একই ছকে…

May 30, 2025
1 min read

মায়ের চরিত্রে জোর করেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে স্নেহাকে?

স্নেহা চট্টোপাধ্যায়। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ। অভিনয় দক্ষতায় প্রশংসিত, অথচ আজ তিনি কাজের খোঁজে অপেক্ষায়। কারণ? বারবার একই রকম চরিত্রের প্রস্তাব—একই ছকে বাঁধা, বয়সের তুলনায় অযথা বেশি পরিণত চরিত্র, বিশেষত মায়ের ভূমিকায়। বাস্তবে যার সন্তান মাত্র চার বছর বয়সী, পর্দায় তাকেই দেখানো হচ্ছে বড় ছেলের মা! এই বিসঙ্গতি স্নেহার কাছে আর বোধগম্য নয়।

সম্প্রতি আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে খোলাখুলি আলাপচারিতায় স্নেহা বলেন, “জানি, বছর দু’য়েক পর হয়তো মা-র চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে। কিন্তু এখনই? বড় ছেলেদের মা? এত তাড়াতাড়ি কেন?” সেই প্রশ্নেই যেন ধরা পড়ে তাঁর হতাশা, ক্ষোভ আর একরাশ অভিমান।

তবে শুধু চ্যানেলকে দোষ দেন না অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে দোষ দিই না। আমার বয়সী অন্যান্য অভিনেত্রীরা এমন চরিত্রে রাজি হয়ে যাচ্ছেন। ফলে, আমাকেও একই ছকে ভাবা হচ্ছে।” কাজের খরচ, জীবনের প্রয়োজন—সব কিছুর মাঝেই কেউ কেউ স্বেচ্ছায় রাজি হয়ে যাচ্ছেন পরিণত চরিত্রে। স্নেহা অবশ্য এখনই সেই গণ্ডিতে নিজেকে আটকে ফেলতে নারাজ।

তাঁর সর্বশেষ টেলিভিশন কাজ ছিল ‘কার কাছে কই মনের কথা’। এরপর ‘লজ্জা ২’ ওয়েব সিরিজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সামনে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘গৃহপ্রবেশ’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ থাকলেও ছোট পর্দায় আর কাজ নেই। এখন তিনি বাড়িতে, ছেলের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠে যেন চেপে রাখা উদ্বেগ, “একটু হলেও খারাপ লাগে। কারণ আমার নিজের খরচ আছে। ছেলেও বড় হচ্ছে। ওর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো জরুরি।”

অভিনয় জগতের বর্তমান অবস্থা নিয়েও উঁকি দিয়েছে তাঁর হতাশা। আগে ধারাবাহিক মানেই দীর্ঘমেয়াদি কাজ, প্রায় অফিসের চাকরির মতো। এখন অনেক সিরিয়াল দু’মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই স্নেহা প্রশ্ন তোলেন, “বছরে দুটো সিনেমা আর একটা সিরিজ করে কি টিকে থাকা সম্ভব?” কাজ কম, চরিত্রের বৈচিত্র্য নেই—এই সাঁড়াশি চাপে তাঁকে যেন হাঁসফাঁস করে তুলেছে।

তবে সেই সঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসও ধরা পড়ে—দর্শক তাঁকে ভোলেননি। স্নেহার কথায়, “দর্শকেরা মনে রাখেন। তা না হলে আজও ‘সুবর্ণলতা’ সিরিয়ালের কথা বলেন অনেকে। শুধু চ্যানেল আর পরিচালকেরা না ভুললেই হল!”

এই লড়াই শুধু স্নেহার একার নয়। টেলিভিশনের বহু অভিনেত্রী এই পরিচিত সংকটে পড়েছেন। বয়স বা অভিজ্ঞতার সঠিক মূল্যায়নের বদলে তাদের পেশাগত জীবন যেন বার্ধক্যের চরিত্রে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্নেহা তাতে আপস করতে নারাজ। তিনি এখনও চাইছেন প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ।

আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *