জম্মুর আকাশে লাল আগুনের ফুলকি, উৎসব নয়—এ যে যুদ্ধের সংকেত!

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা। জম্মু স্টেশনের মোড়ে দাঁড়িয়ে অটো ঠিক করছিলাম। হঠাৎ করেই কানে এল বিকট শব্দ— দুম... দুম... দুম! ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল—মালার মতো লাল বল…

May 9, 2025
1 min read

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা। জম্মু স্টেশনের মোড়ে দাঁড়িয়ে অটো ঠিক করছিলাম। হঠাৎ করেই কানে এল বিকট শব্দ— দুম… দুম… দুম! ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল—মালার মতো লাল বল একের পর এক ছুটে চলেছে দিগন্তের দিকে। প্রথমে মনে হল, কোনও বিয়েবাড়ির রোশনাই বুঝি! উত্তর ভারতের বিয়ে তো এমনই জাঁকজমকপূর্ণ হয়।

কিন্তু এই ভুল কাটতে বেশি সময় লাগল না। অটোচালক যেন বাস্তবে ফেরালেন—কলার টেনে আমাকে ঢুকিয়ে নিলেন অটোয়। সঙ্গে সঙ্গেই শহরটা যেন নিঃশব্দে অন্ধকারে ডুবে গেল। রাস্তার লোকজন দৌড়তে শুরু করেছেন, দোকানগুলো মুহূর্তে বন্ধ। একটা দোকানের সামনে অটো থামতেই চালক আমাকে ঠেলে ঢুকিয়ে দিলেন ভিতরে, নিজেও ঢুকলেন। সেকেন্ডের মধ্যেই ঝাঁপ নামিয়ে দিল দোকানদার।

ঘর অন্ধকার, শুধু মোবাইলের আলো জ্বলছে। দোকানদার ফিসফিসিয়ে স্ত্রীকে ফোনে বলছেন—“আলো নিভিয়ে দাও। দরজার কাছে থাকো, দরকার হলে দৌড়ে বেরিয়ে যেও।” আমার ফোনে তখন একের পর এক মেসেজ ঢুকছে—“Jammu Airbase under attack!”

এই কি যুদ্ধ? ভাবার সময়ও নেই। দূরে গোলাগুলির শব্দ, বাইরে মানুষের পায়ের ছাপ, আতঙ্কের সাইরেন। কিছুক্ষণ আগেও স্টেশন মোড় জমজমাট ছিল—ফলওয়ালার দোকানে ভজন, জামাকাপড়ের দোকানে ভিড়, পানীয়ের স্টলে গরম চা। অথচ এই মুহূর্তে—সব যেন থমকে গেছে।

রাত কাটল আতঙ্কে। আলো ফিরল ভোরবেলা। পুলিশ জানাল, যদি ফের আক্রমণ হয়, সবাইকে বেসমেন্টে থাকতে হবে। নিরাপত্তার জন্য আলো জ্বলবে না।

শুক্রবার ভোরে রওনা দিলাম রাজৌরি ও পুঞ্চের দিকে। চারপাশে সেনা ব্যারিকেড, কনভয়, অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন। পুঞ্চ পৌঁছনোর আগেই পুলিশ ব্যারিকেডে আটকে দিল। পেছনে ফিরতে হল। চোখের সামনে নামছে গ্রামবাসীদের ভর্তি বাস। কারও মুখে কথা নেই। এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে চলেছে মানুষ। যাঁদের সঙ্গে কথা হল, জানালেন—আগের রাতে তাঁদের ঘরে গোলা পড়েছিল, কেউ জানে না কোথায় যাবে, শুধু জানে—সেই রাতের মতো আর একটা রাত তারা এখানে কাটাতে পারবে না।

গ্রাম ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, রাজৌরির হোটেল, দোকানে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরাও ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছেন। যুদ্ধের গন্ধ গায়ে মেখে শহর ছেড়ে পালাতে চাইছেন। সেনার উপস্থিতি বাড়ছে, শব্দ হচ্ছে আরও জোরে—বিস্ফোরণ, গুলির আওয়াজ যেন থামছেই না।

‘ব্রহ্মস’ নয়, কেন ‘হাতুড়ি’র ঘা? অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ ভারত বেছে নিল স্ক্যাল্প ও হ্যামার, কারণ জানেন?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *