“ফ্যাসিবাদ নয়, গণতন্ত্র চাই”— ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে আমেরিকায় অভূতপূর্ব গণআন্দোলন

ফ্যাসিবাদ নয়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মাত্র তিন মাস পেরিয়েছে, আর তাতেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র অসন্তোষ। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্বেচ্ছাচারী নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার…

April 6, 2025
0 min read

ফ্যাসিবাদ নয়!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মাত্র তিন মাস পেরিয়েছে, আর তাতেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র অসন্তোষ। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্বেচ্ছাচারী নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার আমেরিকান রাস্তায় নেমে এসেছেন। শনিবার সকাল থেকেই দেশজুড়ে যেন এক গণবিস্ফোরণ! নিউ ইয়র্ক, হিউস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ম্যানহাটন, এমনকি ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরের রাস্তাগুলো স্লোগানে, প্ল্যাকার্ডে, প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে।

সারা দেশের ৫০টি রাজ্যে অন্তত ১২০০টি স্থানে হয়েছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের একটাই বার্তা— “আমেরিকায় কোনও রাজা নেই, ফ্যাসিবাদ চলবে না!” ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি বলে মনে করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওয়াশিংটন ডিসি। হোয়াইট হাউসের খুব কাছেই ন্যাশনাল মলে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। সংগঠকদের দাবি, শুধু রাজধানীতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন। এই সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ— প্রশাসনের উচ্চপদে ছাঁটাই, অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় কঠোরতা, গর্ভপাতবিরোধী নীতি এবং সাম্প্রতিক শুল্কনীতি যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

ম্যানহাটনের মিছিলে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, “একদল বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষ এখন আমাদের দেশকে চালাচ্ছেন, আমাদের আর গর্ব করার মতো কিছু নেই।” লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “আমার গর্ভ থেকে বেরিয়ে যাও”— যা স্পষ্ট করে ট্রাম্পের গর্ভপাতবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে নারীদের ক্ষোভ।

ওয়াশিংটনের এক বয়স্ক প্রতিবাদী জানান, “নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে আমরা ১০০ জন বাসে করে এসেছি। ট্রাম্পের প্রশাসন শুধু দেশের ভেতরেই বিভাজন তৈরি করছে না, বরং বাইরের দেশগুলোর সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করছে।”

প্রতিবাদ শুধু আমেরিকার ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে লন্ডন এবং বার্লিনের রাস্তাতেও দেখা যায় বিক্ষোভ। লন্ডনে এক মহিলা বলেন, “আমেরিকায় যা হচ্ছে, তা সারা বিশ্বের জন্য হুমকি। তাই আমরা প্রতিবাদ জানাতে নেমেছি।” বার্লিনের এক ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তি বলেন, “ট্রাম্প এখন পুরোপুরি উন্মাদ। সংবিধানকেও তিনি অগ্রাহ্য করছেন।”

তবে এতসব প্রতিবাদের মাঝেও ট্রাম্প দৃঢ়। হোয়াইট হাউসে বসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার নীতি কখনও বদলাবে না।” তাঁর সাম্প্রতিক ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতিতে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। চিন ইতিমধ্যেই পাল্টা শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিয়েছে— গণতন্ত্রে মানুষের কণ্ঠই সবচেয়ে বড় শক্তি। ট্রাম্প চাইলেও আমেরিকানরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, একনায়কতন্ত্রের পথে যেতে তাঁরা প্রস্তুত নন।

স্ট্রেস কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে মাসাজ, তবে সাবধানে নিতে হবে এই সিদ্ধান্ত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *