বিক্ষোভের মাঝেও শান্ত মমতা!
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষক ছিল ‘সামাজিক উন্নয়ন: নারী, শিশু ও প্রান্তিক অংশের উন্নয়ন’। তবে বক্তৃতার মাঝেই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কিছু বিক্ষোভকারী পোস্টার তুলে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। কিন্তু মমতা ছিলেন শান্ত ও সংযত।
তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের সকলকে খুব ভালোবাসি। আপনারা আপনাদের পার্টিকে আরও মজবুত করুন, যাতে আমার সঙ্গে লড়তে পারে! তবে আমাকে অপমান করতে পারেন, কিন্তু দেশকে অপমান করবেন না।” তার এই কথায় সভাকক্ষ করতালিতে ফেটে পড়ে।
সৌরভের সামনে ‘বাপি বাড়ি যা’ মুহূর্ত
সামনের সারিতে বসেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সামনেই গুটিকয়েক বিক্ষোভকারী শোরগোল শুরু করেন। কিন্তু সভার উপস্থিত দর্শকদের সমবেত প্রতিরোধের মুখে বেশি সময় টিকতে পারেননি তাঁরা। বাধ্য হয়ে পোস্টার হাতে হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয় তাঁদের। এই ঘটনার পর মমতা বলেন, “ওঁরা আমায় মিস করলেন।”
এরপর তিনি জনপ্রিয় ইংরেজি গানের দু’লাইন আওড়ে শোনান— “ইফ ইউ মিস দ্য ট্রেন আম অন, ইউ উইল নো দ্যাট আই অ্যাম গন! ইউ ক্যান হিয়ার দ্য হুইসল ব্লো আ হানড্রেড মাইলস।”
সংযত প্রতিবাদ, শক্তিশালী বার্তা
বিক্ষোভকারীদের আচরণ দেখে অনেকেই মনে করেছেন, তাঁরা বক্তৃতা ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন। কিন্তু মমতা বক্তৃতা থামাননি। এক প্রৌঢ় যখন তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেন, তখনও শান্ত কণ্ঠে জবাব দেন, “না ভাই, আমি মিথ্যা বলছি না।” পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিল্পপতি সিকে ধানুকা উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। তখন মমতা তাঁকে থামিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে বিরুদ্ধ স্বর তো থাকবেই, বলতে দিন।”
‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’
বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে দেখে মমতা বলেন, “আমি বছরে দু’বার করে অক্সফোর্ডে আসব। যতবার বলবেন, ততবার আসব। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। ভালো কাজে ডাকলে আমি কাপড় কেচে, রান্না করে, বাসন মেজে দিতে পারি। কিন্তু ভয় দেখালে হবে না। আমি ভয় পাই না। আমি আমার মাথা নত করি শুধু জনতার সামনে, আর কারও সামনে নয়।”
অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষের দুঃখপ্রকাশ
অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ জানান, বিক্ষোভকারীদের কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা গবেষক নন, তাঁরা বহিরাগত। এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য তারা দুঃখপ্রকাশ করেন এবং মমতাকে সম্মান জানিয়ে বলেন, তাঁর বক্তৃতা অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল।
শেষ পর্যন্ত, শান্ত এবং সংযত মমতা তাঁর বক্তৃতা শেষ করেন, এবং সভাস্থল থেকে বেরিয়ে আসার সময় দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। অক্সফোর্ডে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন, দৃঢ়তা ও সংযমের মাধ্যমে প্রতিবাদের মুখেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখা সম্ভব।
মোদীর আমন্ত্রণে সাড়া, ভারতে আসছেন পুতিন! দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়