ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল!
মধ্যরাতে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল! বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ২:৫১ মিনিটে (নেপালের স্থানীয় সময়) হিমালয়ের কোলে থাকা দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.১, যার প্রভাব গিয়ে পড়ে ভারতেও। শিলিগুড়ি, পাটনা-সহ একাধিক এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়, ফলে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
📍 কোথায় ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের সিন্ধুপালচক জেলার ভৈরবকুণ্ড এলাকায়, যা মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। এটি নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বরাবরই বেশি।
🌍 ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে বিতর্ক
যদিও নেপালের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষক সংস্থা কম্পনের মাত্রা ৬.১ বলে জানিয়েছে, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছে—
✅ জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিয়োসায়েন্স: ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল
✅ ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি: ৫.৫ মাত্রা
✅ আমেরিকার জিয়োলজিক্যাল সার্ভে: ৫.৫ মাত্রা
তবে যে মানেরই হোক না কেন, এর প্রভাব ভয়ঙ্কর হতে পারত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
😨 আতঙ্কে রাত কাটালেন বাসিন্দারা!
ভূমিকম্পের সময়, বিশেষ করে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত মানুষজন রাতের অন্ধকারেই বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করছে। উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তার দিক থেকে প্রশাসন ইতোমধ্যেই তৎপর হয়েছে।
⚠️ কেন এত ভূমিকম্প হয় নেপালে?
নেপাল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশটির অবস্থানগত দিক থেকে ‘সিসমিক জোন’ ৪ এবং ৫-এর মধ্যে পড়ে। সাধারণত, যেসব অঞ্চল সিসমিক জোন ৫-এর মধ্যে পড়ে, সেগুলোতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
👉 ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে (৭.৮ মাত্রা) ৯,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল
👉 ধ্বংস হয়েছিল হাজার হাজার বাড়িঘর, বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্য
👉 এরপরও নেপালে নিয়মিত ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়ে চলেছে
🚨 এখন কী অবস্থা?
✅ আতঙ্ক কাটাতে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে
✅ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে
✅ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর এখনও আসেনি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে
নেপাল ও আশপাশের অঞ্চলে ভূমিকম্পের আশঙ্কা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের কম্পন আবারও মানুষের মনে ২০১৫ সালের বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে হয়তো সময় লাগবে, তবে আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর— এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগে লাশ ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা মা-মেয়ে! কী বলল জেরায়?