চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও আফগানিস্তানের দাপট!
এক দিনের বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেল ইংল্যান্ড। তবে এটিকে ‘অঘটন’ বলা যাবে না। কারণ, বারবার অঘটন হয় না— এটা এখন বাস্তবতা! সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আফগানিস্তান এখন বিশ্বমানের দল, যারা যেকোনো বড় দলের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
বুধবার লাহোরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তান ৩২৫ রান তোলে। ইব্রাহিম জ়াদরানের দুর্দান্ত ১৭৭ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। জবাবে ইংল্যান্ড ৪৯.৫ ওভারে ৩১৭ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে ৮ রানে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জস বাটলারের দলের।
🏏 আফগানিস্তানের দুর্দান্ত ব্যাটিং: জ়াদরানের রেকর্ড গড়া ইনিংস
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি আফগানদের। মাত্র ৩৭ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় দল। ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ (৬), সেদিকুল্লা অটল (৪) এবং রহমত শাহ (৪) ব্যর্থ হন।
কিন্তু এরপর ইব্রাহিম জ়াদরান এবং অধিনায়ক হশমতুল্লাহ শাহিদি ১০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে টেনে তোলেন। জ়াদরান একপ্রান্ত ধরে রেখে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবং শেষ পর্যন্ত ১৪৬ বলে ১৭৭ রান করেন, যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর!
শেষদিকে অজমতুল্লাহ ওমরজাই (৩১ বলে ৪১) ও মহম্মদ নবি (২৪ বলে ৪০) দ্রুত রান তুলে আফগানিস্তানকে ৩২৫ রানে পৌঁছে দেন।
🏏 ইংল্যান্ডের হয়ে বোলিং পারফরম্যান্স:
🔹 জফ্রা আর্চার: ৩ উইকেট
🔹 লিয়াম লিভিংস্টোন: ২ উইকেট
🔹 আদিল রশিদ ও জেমি ওভারটন: ১টি করে উইকেট
🇬🇧 ইংল্যান্ডের ব্যর্থ তাড়া: রুটের শতরানও বাঁচাতে পারল না দলকে
৩২৬ রানের লক্ষ্যে নেমে ৩০ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। ওপেনার ফিল সল্ট (১২) ও জেমি স্মিথ (৯) দ্রুত ফিরে যান।
এরপর বেন ডাকেট (৩৮) ও জো রুট দলকে কিছুটা সামলানোর চেষ্টা করেন। রুট একপ্রান্ত ধরে রাখলেও প্রয়োজনীয় বড় পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থ হন ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা।
👉 জো রুটের ১২০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসও দলকে জেতাতে পারেনি। তিনি ১১১ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কা মেরে দলকে প্রায় শেষ পর্যন্ত টানেন। কিন্তু ওমরজ়াইয়ের বলে আউট হয়ে গেলে ইংল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায়।
👉 শেষদিকে জেমি ওভারটন (৩২), জফ্রা আর্চার (১৪) চেষ্টা করলেও ম্যাচ জিততে পারেননি। অধিনায়ক জস বাটলারও ব্যর্থ (৪২ বলে ৩৮)।
🎯 আফগানিস্তানের বোলিং পারফরম্যান্স:
🔥 অজমতুল্লাহ ওমরজ়াই: ৫৮ রানে ৫ উইকেট
🔥 মহম্মদ নবি: ৫৭ রানে ২ উইকেট
💥 আফগানিস্তানের উত্থান: এটা এখন আর চমক নয়!
এখন আর কেউ আফগানিস্তানের জয়ের পর ‘অঘটন’ বলে না, কারণ এটা তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রমাণ। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তারা শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল রশিদ খানের দল। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও সেই দাপট বজায় রাখল তারা।
সেই দেশের কথা ভাবুন, যেখানে যুদ্ধ, তালিবান শাসন, অর্থনৈতিক সংকট— সবকিছুর মধ্যেও ক্রিকেট টিকে আছে! রশিদ খান, জ়াদরান, গুরবাজ, নবিরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, সাধনা আর লড়াই থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়।
🏆 আফগানিস্তানের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা!
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে আফগানিস্তানের।
📅 ২৮ ফেব্রুয়ারি তারা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। যদি সেই ম্যাচে জেতে, তাহলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে চলে যাবে আফগানরা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাও ইংল্যান্ডকে হারালে রান রেটের ভিত্তিতে সেমিফাইনালের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
এই মুহূর্তে আফগানিস্তান শুধু একটি দল নয়, এটি সাহস ও সংকল্পের প্রতীক। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকেও কিভাবে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করা যায়, তা দেখিয়ে দিচ্ছে এই দল!
গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগে লাশ ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা মা-মেয়ে! কী বলল জেরায়?