নাকের বদলে নরুন!
গত তিন বছর ধরে রাশিয়ার সঙ্গে প্রাণঘাতী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাই তাদের অন্যতম ভরসা। কিন্তু ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কিয়েভের সেই সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এবার নতুন কৌশল নিয়েছেন—তিনি বিরল খনিজের লোভ দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই পদক্ষেপে রাশিয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
বিরল খনিজের লোভে আমেরিকা?
ইউক্রেনের ভূমির নিচে লুকিয়ে আছে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বিরল খনিজ, যার মধ্যে লিথিয়াম ও টাইটানিয়াম অন্যতম। এই খনিজগুলির কৌশলগত মূল্য অপরিসীম, কারণ প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলে এই খনিজ পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বাকিগুলি রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের সীমান্তবর্তী এলাকায়, যেখানে উত্তোলন করা অত্যন্ত কঠিন।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে চান। তিনি জানিয়েছেন, বিরল খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ওয়াশিংটনে ওভাল অফিসে বসে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিরল খনিজের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করছি, অথচ ইউক্রেনের কাছে এদের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। আমাদের নীতির সঙ্গে ইউক্রেন একমত হয়েছে।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি হয়তো ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।
চীনের প্রভাব ও খনিজ যুদ্ধ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নজর ইউক্রেনের খনিজের দিকে পড়ার অন্যতম কারণ হলো চীন। বেইজিংয়ের কাছে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজের মজুদ রয়েছে, যা তাদের প্রযুক্তিগত ও সামরিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চায় না, তাই ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইউক্রেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই খনিজ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন রাশিয়া এই পদক্ষেপকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, “আমরা ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের বিনিময়ে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহকে কখনও মেনে নেব না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণের শামিল।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি কিয়েভ এই পথে এগোয়, তাহলে মস্কো আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
যুদ্ধ কি আরও জটিল হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের বর্তমান কৌশল দ্বিগুণ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রথমত, তারা মার্কিন অস্ত্রের সাহায্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চায়। দ্বিতীয়ত, এই চুক্তি কার্যকর হলে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন করে হামলা চালাতে পারে।
ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জ়েলেনস্কি জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া তার দেশের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতেই তিনি বিরল খনিজের কার্ড খেলতে চাইছেন। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের মতে, ইউক্রেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত এখন আমেরিকা ও রাশিয়ার কূটনৈতিক চালবাজির ওপর নির্ভর করছে। কিয়েভের ক্ষমতা পরিবর্তন ছাড়া যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে ধারণা করছে অনেকেই।
উপসংহার
ইউক্রেনের অস্ত্রের বিনিময়ে বিরল খনিজের টোপ দেওয়া কি যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে? যদি করে, তাহলে যুদ্ধ কি আরও দীর্ঘায়িত হবে? এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে কি রাশিয়া আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইউক্রেন এই মুহূর্তে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, আর এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।
নিজেরাই শূন্য, কেজরীবাল ও সিসৌদিয়ার পতন, আতিশীর কান ঘেঁষে জয়!