জানুয়ারিতে বাংলা সিনেমার বাজার: এগিয়ে কে?

বাংলা সিনেমার বাজার বছরের শুরুতেই একগুচ্ছ বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুই ছবি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ এবং রুক্মিণী মৈত্র অভিনীত ‘বিনোদিনী: একটি নটীর…

February 1, 2025
1 min read

বাংলা সিনেমার বাজার

বছরের শুরুতেই একগুচ্ছ বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুই ছবি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ এবং রুক্মিণী মৈত্র অভিনীত ‘বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ্যান’। এই দুই ছবির সাফল্যের পরিসংখ্যান নিয়ে চলছে চর্চা, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কোন ছবি দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছে বেশি?

টলিউডের বক্স অফিসের বাস্তবতা

বাংলা সিনেমার বক্স অফিসের হিসাব সবসময়ই কিছুটা রহস্যময়। বলিউডের মতো এখানে আয়-ব্যয়ের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয় না। প্রযোজক ও পরিবেশকদের মধ্যে এই তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবিগুলোর মধ্যে ব্যবসার নিরিখে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মূলত দুই ছবি—সৃজিতের ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ এবং রাম কমল মুখোপাধ্যায়ের ‘বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ্যান’।

দুই ছবির প্রতিদ্বন্দ্বিতা

পরিবেশক ও হলমালিকদের মতে, জানুয়ারির বাংলা সিনেমার বাজার তুলনামূলক ভালোই ছিল। দক্ষিণ কলকাতার নবীনা প্রেক্ষাগৃহের হলমালিক নবীন চৌখানি বলেন, “ছবির গল্প ভালো হলে দর্শক টানবেই। এই মুহূর্তে বুকিংয়ের নিরিখে দুটি ছবিই ভালো করছে, তবে সৃজিতের ছবি সামান্য এগিয়ে।”

অন্যদিকে, ‘বিনোদিনী’ মুক্তির আগে স্টার থিয়েটারের নাম পরিবর্তন করে ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ রাখা হয়েছিল, যা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল। এই হলের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় জানান, “প্রথম তিন দিন ‘বিনোদিনী’ পুরোপুরি হাউসফুল ছিল। দ্বিতীয় সপ্তাহেও প্রায় ৫০ শতাংশ দর্শক আসছেন, যা বেশ ভালো বলা যায়।”

বড় তারকার হিন্দি ছবি বনাম বাংলা সিনেমা

৩১ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে শাহিদ কাপুর অভিনীত হিন্দি ছবি ‘দেবা’। সাধারণত, বড় তারকার হিন্দি ছবি মুক্তি পেলে বাংলা সিনেমার শো টাইম কমিয়ে দেওয়া হয়। হলমালিক ও পরিবেশক শতদীপ সাহা বলেন, “বাংলা ও হিন্দি সিনেমার দর্শকভিত্তি আলাদা। তাই বাংলা সিনেমার চলন হিন্দি সিনেমার প্রভাব ফেলে না।”

তবে বাংলা ছবির প্রচার এবং মুক্তির ধরন নিয়ে অনেকেরই আপত্তি রয়েছে। বলিপাড়ার গুঞ্জন অনুযায়ী, কোনও ছবি ভালো ব্যবসা না করলেও পরিবেশকরা তা নিয়ে কারসাজি করেন। শো টাইম এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে দর্শকের সংখ্যা কমিয়ে এনে পরে সফল দেখানোর চেষ্টা চলে। এমনকি, অনলাইনে ‘হাউসফুল’ দেখিয়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগও আছে।

পরিবর্তন দরকার বাংলা সিনেমায়

টলিউডের অন্যতম হলমালিক অরিজিৎ দত্ত বলেন, “বছরের শুরুতে বাংলা সিনেমার ব্যবসা খুব ভালো হয়নি, তবে সৃজিতের ছবি তুলনামূলক ভালো করেছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হলমালিক বলেন, “যদি বলা হয় ‘বিনোদিনী’ ভালো ব্যবসা করেছে, তা সঠিক নয়। অনেক সময় প্রযোজকরা নিজেদের স্বার্থে তথ্য পরিবর্তন করেন।”

বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ

বছরের প্রথম মাসে বাংলা সিনেমার বাজার মন্দ না হলেও, হলমালিক ও পরিবেশকদের মধ্যে দ্বিধা স্পষ্ট। যদিও দর্শকরা ভালো কনটেন্ট দেখলে হলে ফিরছেন, তবুও বাংলা সিনেমার প্রচার ও পরিবেশনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা জরুরি। আগামী মাসগুলিতে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর সাফল্যই বলে দেবে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোচ্ছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *